বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
বাণিজ্যিক উটপাখি পালন

উটপাখির বাচ্চার পরিচর্যায় সফলতার পথ দেখাচ্ছেন সজীব (

কৃষি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম

উটপাখির বাচ্চার পরিচর্যায় সফলতার পথ দেখাচ্ছেন সজীব (

বিশ্বের বৃহত্তম পাখি উটপাখির বাণিজ্যিক খামার গড়ে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন খামারি সজীব।

তার খামারে বর্তমানে আট থেকে দশ দিন বয়সী ২০টি উটপাখির ছানা এবং সাত বছর বয়সী দুটি পূর্ণবয়স্ক উটপাখি রয়েছে। মুরগি বা অন্যান্য পাখির মতো উটপাখি সহজে বসে ডিমে তা দেয় না। বাংলাদেশে সাফারি পার্ক এবং রাজশাহীতে ইনকিউবেটরের সহায়তায় উটপাখির কৃত্রিম প্রজনন ও ডিম ফোটানো সফল হয়েছে। ডিম ফুটে বের হওয়ার পরপরই ছানারা মুরগির বাচ্চার মতো নিজেরাই খুঁটে লতাপাতা ও দানাদার খাবার গ্রহণ করতে শুরু করে।

বাচ্চার স্বাস্থ্য সুরক্ষায় খাদ্যাভ্যাস ও পরিচ্ছন্নতার ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সজীব জানান, তিনি ছানাদের বয়লার স্টার্টার ফিড, সজনে পাতা, পেঁপে পাতা, সেদ্ধ ডিম এবং লাইমস্টোন পাথর খাইয়ে থাকেন। অন্যান্য পাখির খাদ্যনালির থলি গলায় থাকলেও উটপাখির গঠন ভিন্ন এবং এদের খাবারের প্রক্রিয়া দুই পায়ের সংযোগস্থলের নিম্নভাগে পাকস্থলীর ওপর নির্ভরশীল। এরা যত বেশি দৌড়াদৌড়ি করে, খাদ্য পরিপাক তত দ্রুত ও কার্যকর হয়। নতুন খামারিদের জন্য এক মাস বয়সের আগে ছানা কেনা ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, জন্মের পর প্রথম দিকে এদের পরিচর্যায় অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হয়। আমদানি ও লালন-পালনের খরচ হিসাব করে এক মাস বয়সী এক জোড়া উটপাখির ছানা তিনি ৫৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। সাত বছর ধরে লালিত দুটি পূর্ণবয়স্ক উটপাখির পেছনে খাদ্য বাবদ যে খরচ হয়েছে, তাতে বর্তমান বাজারে এদের প্রতিটির আনুমানিক মূল্য চার লাখ টাকা।

উটপাখির চিকিৎসা ও সুরক্ষায় দীর্ঘ আট বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এই খামারি। দেশে উটপাখির সুনির্দিষ্ট পশুচিকিৎসক না থাকায় নিজস্ব পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেই তাকে রোগ নির্ণয় শিখতে হয়েছে। উটপাখির সহজাত বৈশিষ্ট্য হলো মেঝেতে যা পায় তাই গিলে ফেলে। সুতা, দড়ি, ব্লেড কিংবা পলিথিনের মতো অপাচ্য বস্তু খেয়ে ফেললে তা হজম না হয়ে বিষক্রিয়া বা গ্যাস তৈরি করে। ফলে আট থেকে দশ দিনের মাথায় পাখির মাথা নিচে ঝুলে পড়ে এবং পরবর্তীতে মৃত্যু ঘটে। নিজেদের মল নিজেরা খেয়ে ফেলার কারণেও পেটে মারাত্মক গ্যাস সৃষ্টি হয়। তাই খামারের মেঝে সার্বক্ষণিক পরিচ্ছন্ন ও আবর্জনামুক্ত রাখা আবশ্যক।

বছরে ২০ থেকে ৩০টি বাচ্চা বিক্রি করতে পারলে সব ব্যয় মিটিয়ে কয়েক লাখ টাকা নিট লাভ থাকে বলে জানান সজীব। তিনি মনে করেন, উটপাখি, ইমু, হরিণ বা ময়ূরের মতো অপ্রচলিত ও বাণিজ্যিক প্রাণিসম্পদ নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ করলে খামারিদের লোকসানের কোনো ঝুঁকি থাকে না।