সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
সিগারেটের বিল পরিশোধে বিলম্ব হওয়াকে কেন্দ্র করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক মুদি দোকানদারের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হল সংলগ্ন পকেট গেটের পাশের একটি দোকানে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। অন্যদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী এলাকার স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী ইলিয়াস। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিকেলে শেখপাড়া বাজারের দিকে যাওয়ার পথে ওই শিক্ষার্থী স্থানীয় দোকানদার ইলিয়াসের কাছ থেকে একটি সিগারেট কেনেন। সে সময় তার কাছে নগদ টাকা না থাকায় পাশের দোকান থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা তুলে বিল পরিশোধের কথা জানান। দোকানদারের সম্মতিতে শিক্ষার্থী পাশের দোকানের দিকে গেলে ইলিয়াস তার পিছু নেন। এরপর টাকা তুলে সিগারেটের পাওনা পরিশোধের সময় দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে ইলিয়াস শিক্ষার্থীর কলার চেপে ধরে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার সময় স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনাস্থলের পাশের একটি দোকানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, শিক্ষার্থী দোকানের ভেতরে থাকা অবস্থায় দোকানদার ইলিয়াস সেখানে প্রবেশ করেন। এ সময় তাকে উচ্চস্বরে বলতে শোনা যায়, তুই দৌড় দিলি কেন। শিক্ষার্থী জবাব দেওয়ার পরপরই ইলিয়াস তার কলার চেপে ধরে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। পরে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এসে দুজনকে আলাদা করে দেন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, শেখপাড়া বাজারে যাওয়ার পথে তিনি ওই দোকান থেকে একটি ক্যামেল সিগারেট কেনেন। তার কাছে নগদ টাকা না থাকায় মোবাইল ব্যাংকিংয়ে মূল্য পরিশোধ করা যাবে কি না জানতে চান। দোকানদার জানান যে তার দোকানে অনলাইন বা ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা নেই। তখন তিনি সামনের দোকান থেকে ক্যাশ আউট করে বিল পরিশোধের কথা বলে এগিয়ে যান। কিন্তু দোকানদার তার পিছু নেন। সামনের দোকান থেকে পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার পর তিনি পিছু নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে দোকানদার হঠাৎ তার জামার কলার চেপে ধরেন এবং চড়-থাপ্পড় মারেন।
তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে দোকানদার ইলিয়াস দাবি করেন, ওই ছাত্র দোকানে এসে একটি সিগারেট চেয়ে তা গ্রহণ করে। এরপর সে ডিজিটাল মাধ্যমে টাকা দেওয়া যাবে কি না জানতে চাইলে অপারগতা প্রকাশ করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, দশ টাকার বিল পরিশোধ না করেই শিক্ষার্থী কোনো কিছু না বলে পাশের দোকানের দিকে দ্রুত চলে যাচ্ছিলেন। বিল না দিয়ে চলে যাওয়ায় তিনি পেছনে যান এবং সেখানে কথা-কাটাকাটি হয়। উল্টো ওই শিক্ষার্থী তাকে মারধর করে আহত করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক শাহীনুজ্জামান জানান, ক্যাম্পাসের বাইরের ঘটনাটি সম্পর্কে জেনে তিনি সরেজমিনে ঘটনাস্থলে যান। উভয় পক্ষকে প্রক্টর কার্যালয়ে ডাকা হয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে ঘটনার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন