রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কুড়িগ্রামে সারের তীব্র সংকট, আমন চাষিদের মাথায় হাত

মোঃ মশিউর রহমান বিপুল

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৫, ০৪:৫৯ পিএম

কুড়িগ্রামে সারের তীব্র সংকট, আমন চাষিদের মাথায় হাত

দিনাজপুর টিভি

আমন মৌসুমের শেষ সময়ে কুড়িগ্রাম জেলায় তীব্র রাসায়নিক সারের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে করে কৃষকদের আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষকরা অভিযোগ করছেন, ডিলাররা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন।

জেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ মৌসুমে জেলায় আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৫৯ হাজার ৬০৮ একর, কিন্তু আবাদ হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৬০০ একর জমিতে। অতিবৃষ্টির কারণে প্রায় ৫২৪ একর জমি পানিতে ডুবে গেছে। এই মাসে জেলায় সারের মোট চাহিদা হলো ইউরিয়া ৮ হাজার ২২৬ মেট্রিক টন, টিএসপি ৯৮২ মেট্রিক টন, ডিএপি ২ হাজার ৬৪৮ মেট্রিক টন ও এমওপি ১ হাজার ৮১৮ মেট্রিক টন।

সরেজমিনে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁছগাছী, ঘোগাদহ, ভোগডাঙ্গা, বেলগাছা, যাত্রাপুর এবং হোলোখানাসহ বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা চারা রোপণ ও সার প্রয়োগ নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু তারা অভিযোগ করেছেন যে ডিলাররা চাহিদামতো সার সরবরাহ করছেন না।

পাঁছগাছী গ্রামের কৃষক এনামুল হক বলেন, "যেখানে এক বস্তা সার দরকার, সেখানে মাত্র ১০ কেজি দেওয়া হচ্ছে।" কৃষক কবির হোসেন জানান, সার না পাওয়ায় তিনি জমিতে ঠিকমতো ধান লাগাতে পারেননি। কৃষকরা সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ করেছেন।

এ বিষয়ে যাত্রাপুর ইউনিয়নের মেসার্স শহিদুল ট্রেডার্সের মালিক শহিদুল ইসলাম কৃষকদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, "সারের কোনো সংকট নেই, কৃষকেরা বাড়িয়ে বলছেন।" অন্যদিকে, জেলা সার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আজিজ মিয়া বলেন, চাহিদার তুলনায় সার কম আসছে এবং ওপর থেকে তাদের কৃষকদের বুঝিয়ে দিতে বলা হচ্ছে।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সিফাত মেহনাজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। তবে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন দাবি করেন যে, পর্যাপ্ত সার মজুদ আছে এবং একটি সিন্ডিকেট চক্র বেশি লাভের আশায় কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। তিনি জানান, তাদের তদারকি অব্যাহত রয়েছে এবং গত বছরের তুলনায় এ বছর বেশি সার মজুদ আছে।