অক্টোবর ৪, ২০২৫, ০৮:৩৫ পিএম
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে গাছ আলু চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। একসময় বাড়ির আঙিনা বা পরিত্যক্ত জমিতে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন মাঠের পর মাঠ চাষ হচ্ছে লতানো এই সবজির। কম খরচ, সহজ চাষ পদ্ধতি এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় এটি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। স্থানীয়ভাবে পান আলু নামে পরিচিত এই সবজি অনেকের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
বর্ষার শেষে যখন অন্য সবজির সরবরাহ কমে যায়, ঠিক তখনই গাছ আলু বাজারে আসে। ফলে এর চাহিদা থাকেสูง এবং দামও ভালো পাওয়া যায়। কৃষকরা জানান, ধুন্দল বা চিচিঙ্গার মাচাতেই এর চারা রোপণ করা যায়, ফলে আলাদা করে মাচা তৈরির খরচ লাগে না। সার ও কীটনাশকের ব্যবহারও প্রায় নেই বললেই চলে। মাত্র তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই ফলন পাওয়া যায়, যা বিক্রি করে কৃষকরা সহজেই লাভের মুখ দেখেন।
উপজেলার এক কৃষক আব্দুল কাদের জানান, তিনি এক বিঘা জমিতে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা খরচ করে প্রায় এক লাখ টাকার গাছ আলু বিক্রি করেছেন, যা থেকে তার বেশ ভালো লাভ হয়েছে। আরেক কৃষক রহিম মিয়া বলেন, বর্তমানে বাজারে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে গাছ আলু বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ আলুর চেয়ে প্রায় দেড়গুণ বেশি। লাভজনক হওয়ায় প্রতিদিন নতুন নতুন কৃষক এই আলু চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, গাছ আলু দেশের কৃষি খাতের জন্য একটি নতুন সম্ভাবনা। চরফরাদী ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এমদাদুল হক জানান, অল্প খরচে ভালো ফলন হওয়ায় এটি কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে এবং তারা নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার নূর-ই-আলম বলেন, গাছ আলু একটি পুষ্টিকর সবজি এবং এটি দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় বলে বিদেশে রপ্তানিরও সম্ভাবনা রয়েছে।
চলতি মৌসুমে পাকুন্দিয়ায় প্রায় ৩ হাজার বিঘা জমিতে গাছ আলুর আবাদ হয়েছে এবং কৃষি বিভাগ ৫০০ মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। কম খরচে অধিক লাভের এই নতুন ফসল পাকুন্দিয়ার কৃষকদের ঘরে হাসি ফুটিয়েছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করেছে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন