অক্টোবর ৩০, ২০২৫, ০৮:৩০ পিএম
ধান-গমের গতানুগতিক কৃষির বাইরে এসে ফলের রাজ্যে নতুন সাফল্যের গল্প লিখছেন বাংলাদেশের তরুণ উদ্যোক্তারা। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার চন্দ্রখানা গ্রামের তরুণ আশরাফুল আলম আনন্দ এই পরিবর্তনের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছেন।
তিনি প্রথমবারের মতো মাত্র দু বিঘা জমিতে মাল্টা চাষ করে আশাতীত ফলন পেয়েছেন, যা স্থানীয় কৃষিতে এক নতুন বিপ্লব হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আশরাফুলের বাগানে বাড়ি এক দেশী জাত ও আফ্রিকান জাতের মোট ৩৫০টি মাল্টা গাছের পাশাপাশি রয়েছে ১০০টি দার্জিলিং কমলা গাছ। রোপণের তিন বছর পর প্রথম বছরেই তিনি প্রায় এক লক্ষ টাকার মাল্টা বিক্রি করেছেন এবং আগামী বছর এই আয় দুই থেকে তিন লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি আশা করছেন।
আশরাফুল জানান, পরিবারের উৎসাহে তিনি এই চাষ শুরু করেছিলেন এবং পরিশ্রমের এমন সফলতায় তিনি আনন্দিত। তার এই সাফল্য দেখতে প্রতিদিন বহু মানুষ তার বাগানে ভিড় করছেন, কেউ বাগান ঘুরে দেখছেন, কেউ সুস্বাদু মাল্টা কিনছেন, আবার কেউ এই লাভজনক চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে পরামর্শ নিচ্ছেন। দর্শনার্থীরা জানান, এই বাগানের মাল্টা বাজারের মাল্টার চেয়ে বহুগুণ সুস্বাদু। এদিকে উপজেলা কৃষি অফিসার রাফিকা আক্তার জানিয়েছেন, আনন্দের মতো তরুণ উদ্যোক্তাদের দেখে অন্য কৃষকরাও মাল্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন এবং কৃষি বিভাগ থেকে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। আশরাফুলের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, সঠিক পরিকল্পনা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে বাংলাদেশের মাটিতেও সোনার ফসল ফলানো সম্ভব।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন