নভেম্বর ৭, ২০২৫, ১১:৩৮ এএম
খুলনা জোনের আওতাভুক্ত চারটি জেলায় (খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট এবং নড়াইল) চলতি রবি মৌসুমে (২০২৫-২০২৬) ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। এই অঞ্চলে ১ লাখ ৮ হাজার ৮৫১ হেক্টর জমিতে লবণাক্ততা সহনশীল ফসল আবাদ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা থেকে মোট ৯ লাখ ৪৯ হাজার ৬০২ টন রবি ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। লবণাক্ততা সহনশীল ফসলের মধ্যে সরিষা, পেঁয়াজ, সূর্যমুখী, তিল, গম, ভুট্টা ও বিভিন্ন ধরনের ফসল রয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট এবং নড়াইল জেলা জুড়ে কৃষকরা ইতোমধ্যে ৫১ হাজার ১৬৭ হেক্টর জমিতে ফসলের চাষ সম্পন্ন করেছেন। রবি ফসলের চাষের এই মৌসুম গত ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে যা ২০২৬ সালের ১৫ মার্চের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই অঞ্চলে রবি ফসলের চাষ মূলত লবণাক্ততা সহনশীল উপকূলীয় অঞ্চলের জমিতেই করা হয়।
উপকূলীয় অঞ্চলের জমিতে বিভিন্ন ফসলের চাষ প্রতি বছর সম্প্রসারিত হওয়ার ফলে এই অঞ্চলের দারিদ্র্যতা হ্রাস পাচ্ছে। সেই সঙ্গে খুলনা, সাতক্ষীরা, নড়াইল ও বাগেরহাট জেলার উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী হাজার হাজার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছে।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সরকার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে রবি ফসলের চাষ সম্প্রসারণে উন্নতমানের বীজ ও সার বিতরণ করছে।
জেলার কয়রার উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষক নওয়াব আলী, শরীফ গাজী ও নুরু হাওলাদার এবং পাইকগাছা উপজেলার কৃষক গোবিন্দ দাস জানান, রবি ফসলের মৌসুমে লবণাক্ততা সহনশীল উপকূলীয় জমিতে বিভিন্ন ফসল চাষ করে তারা স্বাবলম্বী হয়েছেন এবং তাদের ভাগ্যে পরিবর্তন এসেছে। পাইকগাছা উপজেলার দেলুটি ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল হালিম গাজী বলেন, অনেক কৃষক অধিক লাভের জন্য একই জমিতে স্বল্পমেয়াদী আমন ধান কাটার পর সরিষাসহ কিছু ফসল বপন করেন। এতে তারা লাভবান হন।
খুলনা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, গত ২০২৪-২৫ রবি ফসলের মৌসুমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মোট ৬৮ হাজার ৩০২ হেক্টর জমি থেকে ১৩ লাখ ২ হাজার টন ফসলের বাম্পার উৎপাদন অর্জন করে। যদিও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, খুলনা কৃষি অঞ্চলের কৃষকরা রবি ফসলের চাষ শুরু করেছেন। আগামী বছরের মার্চ মাসে এই মৌসুম শেষ হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ক্রমবর্ধমান মৌসুমে সমন্বিত সেচ ব্যবস্থার পাশাপাশি উপযুক্ত জলবায়ু ও কৃষকদের পরিশ্রমের ফলে তারা কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন পাবেন। এছাড়া কৃষি ব্যাংকসহ অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংক উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কৃষকদের ঋণ বিতরণ করেছে। গত রবি মৌসুমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় দুই লাখেরও বেশি পরিবার ফসল চাষ করে স্বনির্ভরতা অর্জন করেছে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন