শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কবিতার ভাষায় আবু সাঈদের প্রতি শ্রদ্ধা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুলাই ১১, ২০২৬, ০১:০২ পিএম

কবিতার ভাষায় আবু সাঈদের প্রতি শ্রদ্ধা

আবু সাঈদকে নিয়ে একটি নতুন কবিতা প্রকাশ করেছেন কবি নূরুজ্জামান শাহ্। কবিতাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পরপরই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ত্যাগের মহিমা ও স্বাধীনতার ঘ্রাণে ভরপুর কবিতাটিতে কবি আবু সাঈদকে এই জনপদের ‘নতুন মুয়াজ্জিন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

কবিতাটিতে কবি লিখেছেন, "আবু সাঈদ—এই জনপদের নতুন মুয়াজ্জিন! যার আজান শুনে কাতারবন্দি হয়েছিল দেশ!" কবিতার প্রতিটি ছত্রে যেন ত্যাগের এক নতুন আখ্যান উঠে এসেছে। কবি তার লেখায় দেশের তেরোশত নদী, গারো পাহাড়, মাধবকুণ্ডের ঝরনা এবং নোনা সমুদ্রের কথা টেনে এনেছেন, যা দেশের প্রতিটি মানুষের আবেগের প্রতিফলন। আবু সাঈদের দুই হাতে ছিল ভোরের মুকুল আর চোখে ছিল ঝলমলে রোদ্দুর—এই রূপকের মাধ্যমে কবি তার সাহস ও স্বপ্নের কথা ফুটিয়ে তুলেছেন।

নূরুজ্জামান শাহ্ তার কবিতায় মুক্তির প্রতীক্ষাকে চিত্রিত করেছেন শৈল্পিক ভঙ্গিমায়। তিনি লিখেছেন, "সে যেন আস্ত টের পেয়েছিল—দোয়েল পাখির ডানায় স্বাধীনতার ঘ্রাণ আসছে!" কবির ভাষায়, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে আমরা ফিরে পেয়েছি সোঁদা মাটির গন্ধ, সজনেডাঁটার ঝালর, মৌরি ফুলের ক্ষেত এবং শাপলা-শালুকের দিন। কবিতাটিতে কেবল বেদনা নয়, বরং আবু সাঈদের আত্মত্যাগের ফলে অর্জিত স্বাধীনতার আনন্দ ও নতুন দিনের স্বপ্ন বারবার উঠে এসেছে।

কবি লিখেছেন, "আবু সাঈদ এক মস্ত জাদুকরের নাম! এই জাদু জানলে মুক্তির ফুল ফোটে মাশরিকে মাগরিবে!" কবিতার শেষ অংশে তিনি মুক্তির নতুন সুর ও ত্যাগের যে চিত্র এঁকেছেন, তা পাঠকমহলে গভীরভাবে আলোড়িত করেছে।

এই কবিতাটি কেবল একটি আবেগীয় বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং এটি একটি সময়ের দলিল। নতুন প্রজন্মের কাছে ত্যাগের ইতিহাস তুলে ধরার ক্ষেত্রে নূরুজ্জামান শাহের এই প্রয়াস প্রশংসিত হচ্ছে। পাঠকরা বলছেন, কবির ভাষায় আবু সাঈদ কেবল একজন ব্যক্তি নন, বরং তিনি মুক্তির একটি প্রতীক হয়ে উঠেছেন।