অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
মা ইলিশ সংরক্ষণে পদ্মা ও মেঘনাসহ দেশের ছয়টি অভয়াশ্রমে ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে। দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে আবারও জাল, নৌকা আর বুকভরা প্রত্যাশা নিয়ে নদীতে নামার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন চাঁদপুরের অর্ধলক্ষাধিক জেলে।
নদীতে ফিরছে জেলেদের কোলাহল।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীর প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকায় মাছ ধরা, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ এবং কেনাবেচাসহ সব কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ ছিল। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার খবরে নদীতীরের ঘাটগুলোতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলেরা। ধারদেনা আর জমানো অর্থ দিয়ে জাল মেরামত ও ট্রলার প্রস্তুত করতে একেকটি নৌকায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। কাঙ্ক্ষিত ইলিশ জালে ধরা না পড়লে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন তারা।
নিষেধাজ্ঞার এই ২২ দিনে অভাব-অনটনে দিন কাটানোর কথা জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা। তাদের অভিযোগ, সরকারিভাবে যে চাল সহায়তা দেওয়া হয়েছে তা সংসার চালানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। তাছাড়া অভিযানের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন জেলেদের একাংশ। তাদের দাবি, রাতে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে কিছু অসাধু জেলেকে নদীতে নামার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে, যার কারণে অভিযান পুরোপুরি সফল হয়নি।
তবে এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আজমগীর হোসাইন। তিনি জানান, যারা বেআইনিভাবে নদীতে নেমে ব্যর্থ হয়েছে, তারাই মূলত অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর তৎপরতায় এবারের অভিযান সফল হয়েছে বলেই দাবি তার।
মা ইলিশ রক্ষায় গঠিত জেলা টাস্কফোর্সের সমন্বয়ে নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও মৎস্য বিভাগ যৌথভাবে নদীতে সার্বক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করেছে। এই ২২ দিনে ৫ শতাধিক জেলেকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে জেল ও জরিমানা করা হয়। সেই সঙ্গে জব্দ করা হয়েছে কয়েক লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও মাছ ধরার নৌকা। এর মধ্যে কেবল নৌপুলিশের অভিযানেই ১০৫টি মৎস্য মামলা দায়ের, এক হাজার ৩০০ কেজি মা ইলিশ ও শতাধিক জেলে নৌকাসহ বিপুল পরিমাণ জাল উদ্ধার করা হয়।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সার্বিকভাবে প্রজনন রক্ষার অভিযান সফল হয়েছে। তবে নদীতে ছোট আকারের ইলিশের আধিক্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, ইলিশের ভবিষ্যৎ উৎপাদন ধরে রাখতে নদীদূষণ রোধ এবং সাকার ফিশের মতো ক্ষতিকর জলজ প্রাণীর বিস্তার বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
মৎস্য খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, কেবল ২২ দিনের সাময়িক নিষেধাজ্ঞায় সীমাবদ্ধ না থেকে ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে সারাবছরই নদীর অভয়াশ্রম পাহারা দেওয়া, ক্ষতিকর জালের ব্যবহার বন্ধ ও জাটকা নিধন স্থায়ীভাবে প্রতিরোধ করতে হবে। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার সময়ে প্রান্তিক জেলেদের জন্য সরকারি খাদ্যসহায়তার পরিমাণ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন