ডিসেম্বর ৫, ২০২৫, ১১:১৭ এএম
শীত আসতে না আসতেই বরগুনা জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে ঠান্ডাজনিত নানা রোগবালাই। বিশেষ করে ডায়রিয়া আর নিউমোনিয়ার প্রকোপে জেলার শিশুরা দিশাহারা হয়ে পড়েছে। বরগুনার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ধারণক্ষমতার তিনগুণ রোগী ভর্তি হওয়ায় এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সংকটের কারণ।
চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ওষুধ সংকটের পাশাপাশি চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও অবনতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সরেজমিনে বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করে দেখা গেছে, হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে বেড না পেয়ে অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে মেঝেতে সন্তানদের চিকিৎসা করাচ্ছেন।
মাত্র ৫০ শয্যার এই ওয়ার্ডে প্রতিদিনই দেড় শতাধিক শিশু ভর্তি থাকছে। ভর্তি হওয়া শিশুদের বেশিরভাগই প্রথমে ঠান্ডা, জ্বর, কাশি নিয়ে আসলেও পরে নিউমোনিয়া ধরা পড়ছে। পাশাপাশি বহু শিশু ডায়রিয়াতেও আক্রান্ত হচ্ছে। হাসপাতালের হিসাব অনুযায়ী, শুধু নভেম্বর মাসে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে আট শতাধিক শিশু এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও চার শতাধিক শিশু।অভিভাবকদের গুরুতর অভিযোগ হলো, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা মিললেও প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে হচ্ছে বাহিরের ফার্মেসি থেকে। কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করাতে হচ্ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। এতে বাড়তি খরচের চাপ সামলাতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সন্তানের চিকিৎসা নিতে আসা হাওয়া আক্তার জানান, তার একমাত্র সন্তান নিউমোনিয়ার কষ্টে হাসপাতালে সাতটি রাত পার করছে, অথচ জরুরি ওষুধগুলো এখনো বাইরের দোকান থেকে কিনতে হয়। আরেক সেবাপ্রত্যাশী আব্দুল আলীম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "দুই শতাধিক রোগীর ভিড়ে কি অপরিসীম অপেক্ষা করতে হচ্ছে। একটি নেবুলাইজার মেশিনের মাধ্যমে শত শত রোগীকে সেবা দেওয়া হয়। সময়মতো সেবা মেলে না, ওষুধেরও সংকট আছে। শীতের শুরুতেই যদি এমন হয়, তাহলে বাকি দিনগুলো কেমন কাটবে?"
শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মেহেদী পারভেজ বলেছেন, ঠান্ডাজনিত সংক্রমণের কারণেই শিশুরা দ্রুত জটিল অবস্থায় পড়ছে। তাই এই সময়ে শিশুদের নিয়ে সারাদেশের অভিভাবকদের বাড়তি সচেতনতার পাশাপাশি অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রেজওয়ানুর আলম স্বীকার করেছেন, রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণেই ওষুধের মজুত দ্রুত শেষ হয়ে গেছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে ওষুধ ও সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন