রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সেন্টমার্টিন ভ্রমণে খরচ ও ভোগান্তি বেড়েছে পর্যটকদের

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ২১, ২০২৫, ১১:৫৩ এএম

সেন্টমার্টিন ভ্রমণে খরচ ও ভোগান্তি বেড়েছে পর্যটকদের

দীর্ঘ দশ মাস নিষেধাজ্ঞার পর চলতি ডিসেম্বরের শুরু থেকে পর্যটকদের জন্য প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে রাতযাপনের অনুমতি দিয়েছে সরকার। এতে ভ্রমণপিপাসুদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিলেও বাস্তবে যাতায়াত খরচ এবং ভোগান্তি বেড়েছে কয়েক গুণ।

পর্যটকদের অভিযোগ এখন কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া ঘাট থেকে সেন্টমার্টিনে আসা-যাওয়ার সর্বনিম্ন ভাড়া দাঁড়িয়েছে সাড়ে তিন হাজার টাকা যা আগে টেকনাফ থেকে মাত্র এক হাজার থেকে বারোশ টাকার মধ্যে ছিল। খরচের পাশাপাশি যাত্রার সময়ও বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি।

আগে টেকনাফ থেকে মাত্র দুই ঘণ্টায় দ্বীপে পৌঁছানো গেলেও এখন কক্সবাজার থেকে জাহাজযোগে যেতে সময় লাগছে প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা।

ফলে পর্যটকদের দীর্ঘ সময় জাহাজে বসেই পার করে দিতে হচ্ছে যা অনেকের জন্য ক্লান্তিকর হয়ে উঠছে।যাতায়াতের এই সমস্যার পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে টিকিটের তীব্র সংকট। ভ্রমণকারীদের মতে অন্তত বিশ দিন আগে টিকিট বুক না করলে এখন সেন্টমার্টিন যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এছাড়া সেন্টমার্টিন জেটিঘাটের চরম অব্যবস্থাপনা পর্যটকদের আনন্দের যাত্রাকে আতঙ্কে রূপ দিচ্ছে। পুরোনো জেটি মেরামতের কাজ চলায় পর্যটকদের বসার কোনো সুব্যবস্থা নেই এবং জেটি পর্যন্ত পৌঁছানোর সরু রাস্তাটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক পর্যটকদের জন্য এই পথ পাড়ি দেওয়া অনেকটা মরণফাঁদের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে জাহাজ নির্ধারিত সময়ে ঘাটে না পৌঁছানোয় যাত্রী ওঠানামায় চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। পর্যটকরা বলছেন এত টাকা খরচ করে পরিবার নিয়ে আনন্দ করতে এসে এমন অব্যবস্থাপনা মেনে নেওয়া কঠিন।স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন পরিবেশ রক্ষার দোহাই দিয়ে যেভাবে পর্যটন সীমিত করা হয়েছে তাতে স্থানীয় অর্থনীতি ধসে পড়ছে।

তাদের দাবি সমুদ্রপথে প্লাস্টিক ও দূষণ রোধে কঠোর হওয়া জরুরি হলেও পর্যটক যাতায়াত এভাবে কঠিন করা সমাধান নয়। আগে যেখানে প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় হাজার পর্যটক দ্বীপে যেতেন এখন সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এদিকে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন বলছে তারা পর্যটকদের নিরাপত্তা ও ভোগান্তি কমাতে কাজ করে যাচ্ছেন। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন জেটি মেরামতের কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে পর্যটকরা মনে করছেন যাতায়াত সহজ ও ব্যয়সাধ্য না করলে সেন্টমার্টিনের পর্যটন শিল্প বড় ধরনের সংকটে পড়বে।