রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

৯ মাসের জন্য বন্ধ হচ্ছে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম

৯ মাসের জন্য বন্ধ হচ্ছে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ

কক্সবাজারের নয়নাভিরাম প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে দীর্ঘ নয় মাসের জন্য পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রোববার থেকে এই দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। শনিবার ছিল চলতি মৌসুমের শেষ দিন এবং এদিনই শেষবারের মতো পর্যটকবাহী জাহাজগুলো দ্বীপে যাতায়াত করেছে। 

এরপর নতুন কোনো নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত আর কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারের এই কঠোর সিদ্ধান্তে পরিবেশ রক্ষার সম্ভাবনা থাকলেও পর্যটননির্ভর দ্বীপবাসীর মনে এখন চরম অনিশ্চয়তা আর দুশ্চিন্তার কালো ছায়া নেমে এসেছে।

সাধারণত প্রতি বছর অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে পর্যটনের ভরা মৌসুম থাকে কিন্তু এবার সময়সীমা কমিয়ে মাত্র তিন মাস করা হয়েছিল। নভেম্বর মাসে রাতযাপন নিষিদ্ধ থাকায় এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন কড়াকড়ির কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কাঙ্ক্ষিত লাভের মুখ দেখতে পারেননি। 

দ্বীপের প্রায় প্রতিটি পরিবার সরাসরি পর্যটন খাতের সাথে জড়িত। হোটেল, রেস্তোরাঁ, ভ্যান-রিকশা থেকে শুরু করে গাইড ও নৌযান চালক—সবার সংসার চলত এই কয়েক মাসের আয়ের ওপর। সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান হঠাৎ ভ্রমণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে বড় ধরনের হতাশা কাজ করছে। সময়টা কিছুটা বাড়ানো গেলে মানুষের প্রস্তুতি নিতে সুবিধা হতো।হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির নেতারা জানিয়েছেন এবারের মৌসুমে অনেক ব্যবসায়ী তাদের লগ্নি করা মূলধন পর্যন্ত তুলতে পারেননি। ঋণ করে ব্যবসা পরিচালনা করা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা এখন কিস্তি পরিশোধের চিন্তায় দিশেহারা। 

স্থানীয়দের দাবি চলতি মৌসুমে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার পর্যটক দ্বীপে গেলেও সময় স্বল্পতার কারণে তার সুফল ব্যবসায়ীরা পাননি। রিকশাচালক থেকে শুরু করে কটেজ ব্যবসায়ী—সবার একই অভিযোগ যে বড় বড় সিন্ডিকেট লাভবান হলেও সাধারণ স্থানীয়রা ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে পড়ছেন। এখন পর্যটন বন্ধ হলে মাছ ধরা ছাড়া তাদের বেঁচে থাকার আর কোনো বিকল্প পথ থাকবে না।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসাইন জানান শনিবার পর্যন্ত পর্যটকবাহী জাহাজগুলো চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। রোববার থেকে সব ধরনের পর্যটন সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বন্ধ থাকবে এবং সরকারের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য যে সেন্টমার্টিনের সৈকতে রাতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দে গান বাজানো, বারবিকিউ পার্টি এবং প্লাস্টিক ব্যবহার আগে থেকেই নিষিদ্ধ ছিল। প্রবাল ও সামুদ্রিক প্রাণীর সুরক্ষায় এই কড়াকড়ি আরোপ করা হলেও দ্বীপের মানুষের মানবিক দিক বিবেচনায় অন্তত আরও কয়েক মাস পর্যটন চালু রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।