ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম
পঞ্চগড়ে বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা উত্তরা গ্রীণ টি নামে একটি চা কারখানা পুনরায় চালুর দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন স্থানীয় ক্ষুদ্র চা চাষী ও শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশ চা বোর্ডের পঞ্চগড় আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে উপস্থিত চাষীরা অভিযোগ করেন, কারখানাটি বন্ধ থাকায় আসন্ন চা মৌসুমে তারা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার শঙ্কায় রয়েছেন।
মাঠ পর্যায়ের তথ্যানুযায়ী, পঞ্চগড় সদর উপজেলার কেচারা পাড়া এলাকায় অবস্থিত এই চা কারখানাটি ২০২০ সালের শুরুতে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে। শুরু থেকেই কারখানাটি স্থানীয় চাষীদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে চা পাতা সংগ্রহ করে আসছিল।
তবে নিবন্ধন সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ চা বোর্ড কারখানাটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এর ফলে ওই কারখানায় নিয়মিত চা পাতা সরবরাহকারী সহস্রাধিক ক্ষুদ্র চা চাষী বর্তমানে বিপাকে পড়েছেন। চাষীদের দাবি, কারখানাটি বন্ধ থাকলে স্থানীয় চা বাজারে সিন্ডিকেট চক্র সক্রিয় হয়ে উঠবে এবং ওজনে ও দামে কারচুপি করে চাষীদের ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
বক্তারা মানববন্ধনে আরও বলেন, কারখানার সাথে চা বোর্ডের যদি দাপ্তরিক বা কাগজপত্রের কোনো সমস্যা থাকে, তবে তা আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধান করা উচিত। কিন্তু এর জন্য কারখানা বন্ধ রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আগামী ১ মার্চ থেকে চায়ের নতুন মৌসুম শুরু হতে যাচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে কারখানাটি যেন পুনরায় চা পাতা কেনা শুরু করতে পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তারা চা বোর্ডের প্রতি জোর আবেদন জানান। তারা মনে করেন, এই কারখানাটি বন্ধ থাকলে জাতীয় চা উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়বে।
কর্মসূচি শেষে চাষীরা বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন চা বোর্ডের পঞ্চগড় আঞ্চলিক কার্যালয়ের ফার্ম সুপারভাইজার মেহেদী হাসান। তিনি জানান, চাষীদের দাবি সম্বলিত স্মারকলিপিটি দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হবে। মানববন্ধনে পঞ্চগড় চা বাগান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মানিক খান, চা চাষী রফিকুল ইসলাম ও সোহেল রানাসহ স্থানীয় ক্ষুদ্র চাষীরা বক্তব্য রাখেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন