শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

দাদিকে মেরে নাতনিকে ধর্ষণের পর হ‍‍`ত্যা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ১১:২৯ এএম

দাদিকে মেরে নাতনিকে ধর্ষণের পর হ‍‍`ত্যা

জোড়া খুনে স্তব্ধ এলাকা

পাবনার ঈশ্বরদীতে গভীর রাতে এক ভয়াবহ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানিপুর উত্তরপাড়া গ্রামে দাদিকে কুপিয়ে হত্যার পর ১৫ বছরের নাতনিকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দিবাগত রাতে সংঘটিত এই পৈশাচিক ঘটনার পর আজ সকালে পৃথক দুটি স্থান থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

নিহতরা হলেন ভবানিপুর উত্তরপাড়া গ্রামের নজিমুদ্দিনের স্ত্রী সুফিয়া খাতুন এবং তার নাতনি জামিলা আক্তার। এই রোমহর্ষক জোড়া খুনের ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে যে মধ্যরাতে হঠাৎ ওই বাড়ি থেকে কান্নাকাটির আওয়াজ শুনে প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। তবে কিছুক্ষণ পর কান্নার শব্দ থেমে গেলে তারা পুনরায় নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান। সকালে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ বাড়ির উঠানে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

 এই সময় তার নাতনি জামিলাকে বাড়িতে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে বাড়ির পাশের একটি সরিষা ক্ষেতে কিশোরী জামিলার বিবস্ত্র মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা যে নাতনিকে অপহরণে বাধা দেওয়ায় বৃদ্ধা দাদিকে প্রথমে কুপিয়ে হত্যা করা হয় এবং পরে কিশোরীটিকে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মমিনুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও জানান যে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং নাতনিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে কি না তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। 

এদিকে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানিয়েছেন যে অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ দল কাজ শুরু করেছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে এবং এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।