রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পঞ্চগড়ে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ১ মৃত্যু ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

আবু সালেহ মোঃ রায়হান

মার্চ ২৮, ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম

পঞ্চগড়ে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ১ মৃত্যু ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা। ছবি-দিনাজপুর টিভি

পঞ্চগড়ে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও ভয়াবহ শিলাবৃষ্টির তাণ্ডবে গাছ চাপা পড়ে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দেয়াল ধসে আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং জেলার বিভিন্ন স্থানে রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বজ্রসহ ভারী বৃষ্টি ও বড় বড় শিলা পড়তে শুরু করে। 

পরবর্তীতে রাত ১২টার পর থেকে শুরু হয় কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডব। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই দুর্যোগে ঘরবাড়ি ও ফসলের ওপর দিয়ে বয়ে যায় ধ্বংসাত্মক প্রভাব।

নিহত ওই বৃদ্ধার নাম চাকাতি বালা, তিনি পঞ্চগড় সদর উপজেলার বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝড় চলাকালে বাড়ির পাশের একটি বিশাল গাছ উপড়ে তার ঘরের ওপর পড়লে তিনি চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এছাড়া পৃথক একটি ঘটনায় পাশের একটি চারতলা ভবনের নির্মাণাধীন দেয়াল ধসে ঘরের চাল ভেঙে পড়লে আরও দুইজন যাত্রী আহত হন। 

স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। ঝড়ের তীব্রতায় অনেক কাঁচা ও টিনশেড ঘরের চাল উড়ে গেছে এবং গাছপালা ভেঙে পড়ে বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।চলতি মৌসুমে রবি শস্যের ওপর এই শিলাবৃষ্টি মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, থেমে থেমে পড়া বড় আকৃতির শিলার আঘাতে ভুট্টা, বাদাম, আম ও লিচুর মুকুলসহ বিভিন্ন ফসলের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। 

অতিবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির ফলে অনেক কৃষকের ফসলহানির শঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোতে এখন কান্নার রোল ও শোকের ছায়া বিরাজ করছে।তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানিয়েছেন, মৌসুমি বায়ু হঠাৎ সক্রিয় হয়ে ওঠায় এই ভারী বৃষ্টিপাত ও শিলাবৃষ্টি হয়েছে। 

আবহাওয়া অফিস আরও পূর্বাভাস দিয়েছে যে আগামী ১ এপ্রিল পর্যন্ত জেলাজুড়ে বিচ্ছিন্নভাবে প্রবল বেগে ঝড়ো হাওয়া, বজ্রসহ বৃষ্টি এবং শিলাবৃষ্টির উচ্চ আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া পরিবর্তনের এই সময়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ ইতিমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।