এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম
পাবনার ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে এই সংঘাত চলাকালে গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাস এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে কলেজ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায় যে দুপুরে শহরের বকুলের মোড় এলাকা থেকে ছাত্রশিবিরের একটি মিছিল কলেজের দিকে অগ্রসর হয়।
মিছিলটি কলেজ গেটের কাছাকাছি পৌঁছালে সেখানে অবস্থানরত ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সূত্রপাত ঘটে। এসময় ইট-পাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।
সংঘর্ষ চলাকালে কলেজ গেটের সামনে অবস্থিত ছাত্রদলের একটি অস্থায়ী কার্যালয় ভাঙচুর করা হয় যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।এই সংঘাতের বিষয়ে ছাত্রশিবিরের উপজেলা সভাপতি সজিব হাসান দাবি করেছেন যে তারা কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছিলেন। তাঁর ভাষায় শহরের বকুলের মোড় থেকে মিছিল নিয়ে কলেজ গেটে পৌঁছালে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে উস্কানিমূলকভাবে ইট-পাটকেল ছোড়া হয়।
তবে কার্যালয় ভাঙচুরের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন যে কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা তাদের জানা নেই। অন্যদিকে ছাত্রদলের কলেজ শাখার সহ-সভাপতি ইমরান হোসেন খান পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন যে ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ অবস্থানের সময় শতাধিক শিবির কর্মী বহিরাগতদের নিয়ে হামলা চালিয়েছে। তিনি দাবি করেন যে পরিকল্পিতভাবে ককটেল ফাটিয়ে তাদের নেতাকর্মীদের মারধর ও অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশাদূর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে সংঘর্ষের খবর পেয়েই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে উভয় পক্ষই ক্যাম্পাস এলাকা ত্যাগ করেছে এবং পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পরবর্তী কোনো বিশৃঙ্খলা এড়াতে ক্যাম্পাসে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন রাখা হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করলেও কোনো পক্ষ থেকে এখনও লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে থানা সূত্রে জানা গেছে। সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এলাকাটি পুলিশের কড়া নজরদারিতে রয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন