মে ৯, ২০২৬, ০১:৫৯ পিএম
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য প্রাথমিকভাবে নিহত গৃহবধূর স্বামী ফোরকান মিয়াকে দায়ী করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ফোরকান পলাতক রয়েছেন।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুর আলম শনিবার দুপুরে জানান, হত্যাকাণ্ডের পর ঘাতক ফোরকান মিয়া নিজেই তার আত্মীয়স্বজনকে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছেন।
ওসির ভাষ্যমতে, প্রাথমিক তদন্তে সবকিছু বিবেচনা করে ফোরকান মিয়াকেই খুনি হিসেবে সন্দেহ করছে পুলিশ। অভিযুক্ত ফোরকান মিয়ার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার সদর এলাকায়। তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়ির নিচতলায় ভাড়া থাকতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় এই খুনের ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে ঘরের ভেতর মরদেহগুলো পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শারমিনের তিন সন্তানের গলাকাটা মরদেহ ঘরের মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে ছিল। শারমিনের ভাই রসুলের মরদেহ ছিল বিছানার ওপর। এছাড়া মা শারমিনের হাত-মুখ বাঁধা মরদেহ জানালার পাশে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন জানিয়েছেন, একই পরিবারের পাঁচজনকে নৃশংসভাবে হত্যার কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ নিবিড়ভাবে কাজ করছে। খুনের পেছনের সঠিক মোটিভ শনাক্ত করতে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আশফাক উজ্জামান জানিয়েছেন, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
এই ঘটনায় কাপাসিয়া থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্ত ফোরকান মিয়াকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম ইতিমধ্যে অভিযান শুরু করেছে বলে নিশ্চিত করেছে জেলা পুলিশ। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ এলাকাটি ঘিরে বিশেষ নজরদারি জারি রেখেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন