মে ১৬, ২০২৬, ০৯:২১ পিএম
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলা ভূমি অফিস সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে গাজীপুরের পাঁচ খুনের প্রধান আসামি ফোরকান মোল্লার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে পদ্মা সেতু থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে স্থানীয়রা লাশটি ভাসতে দেখেন। এরপর মাওয়া নৌ-পুলিশ ও লৌহজং থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে ভাসমান মরদেহটি উদ্ধার করে।
মাওয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ইলিয়াস হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।নৌপুলিশ লাশটি উদ্ধার করে গাজীপুরের কাপাসিয়া থানা পুলিশ ও ফোরকানের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। খবর পেয়ে ফোরকানের ভাই আব্দুল জব্বার এবং কাপাসিয়া থানার পরিদর্শক জুবায়ের রহমান প্রাথমিকভাবে লাশটি ফোরকানের বলে শনাক্ত করেন।
পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ শেষ হলে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এর আগে পদ্মা সেতুর ওপর পরিত্যক্ত অবস্থায় ফোরকানের একটি ব্যাগ ও কিছু জামাকাপড় উদ্ধার করেছিল সিআইডি।
নৃশংস ওই হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকান সেতু থেকে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।গত শুক্রবার ৮ মে দিবাগত রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাড়িতে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল। পেশায় প্রাইভেটকারচালক ফোরকান সেখানে তার স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম, মারিয়া, ফারিয়া এবং শ্যালক রসূল মিয়াকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। নৃশংস এই ঘটনার পরদিন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফোরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে ফোন করে নিজে পাঁচজনকে খুন করার কথা স্বীকার করে পালিয়ে যান।
এরপর প্রতিবেশীরা ওই বাড়িতে গিয়ে ঘরের মেঝেতে তিন শিশুর গলাকাটা লাশ এবং জানালার গ্রিলে মায়ের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান।ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল, রান্না করা পায়েশ ও কোকাকোলার বোতল উদ্ধার করেছিল পুলিশ। মরদেহের পাশে পাওয়া কিছু কাগজের সূত্র ধরে জানা যায় ফোরকান এর আগে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পরকীয়ার অভিযোগ এনেছিলেন।
পারিবারিক কলহ ও পরকীয়ার জেরেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা। চাঞ্চল্যকর এই মামলায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ইতিমধ্যে দুজনকে আটক করেছে। নিহত ফোরকান মোল্লা গোপালগঞ্জ সদরের মেরী গোপীনাথপুর গ্রামের আতিয়ার রহমান মোল্লার ছেলে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন