রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

পশুর হাটে চাঁদাবাজি সত্যতা পেয়েও জরিমানা মাত্র ৩ হাজার

শহিদুল ইসলাম

মে ২৬, ২০২৬, ১১:১৪ পিএম

পশুর হাটে চাঁদাবাজি সত্যতা পেয়েও জরিমানা মাত্র ৩ হাজার

ছবি-দিনাজপুর টিভি

নীলফামারীর পশুর হাটগুলোতে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ক্রেতা ও খামারিদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকার অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর প্রশাসন জেলার জলঢাকা ও সদর উপজেলার দুটি হাটে অভিযান চালালেও জরিমানার পরিমাণ নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। 

অভিযানে অনিয়মের সত্যতা মিললেও ইজারাদারদের যে জরিমানা করা হয়েছে, তাকে নামমাত্র বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ।ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানার অংক নিয়ে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার জলঢাকার মীরগঞ্জ হাটে অভিযান চালিয়ে ইজারাদারকে মাত্র ৩ হাজার টাকা জরিমানা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এর আগের দিন সদর উপজেলার রামগঞ্জ হাটে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগে ইজারাদারকে করা হয় ২ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা। 

কোরবানির মৌসুমে যেখানে প্রতিটি হাটে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পশুর কেনাবেচা হয়, সেখানে এই জরিমানা অনিয়ম প্রতিরোধের চেয়ে বরং প্রশ্রয় দেওয়ার শামিল বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।প্রতি পশুর জন্য নির্ধারিত হারের চেয়ে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে।নিয়ম অনুযায়ী প্রতি গরুর হাসিল ৬০০ টাকা হলেও ইজারাদাররা নিচ্ছেন ১ হাজার টাকা। 

প্রতিদিন একটি হাটে প্রায় ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত বাড়তি হাতিয়ে নিচ্ছে সিন্ডিকেট। এই বিশাল অবৈধ বাণিজ্যের বিপরীতে মাত্র কয়েক হাজার টাকার জরিমানা সাধারণ মানুষের পকেট কাটার উৎসবকে কোনোভাবেই থামাতে পারবে না। বরং ভ্রাম্যমাণ আদালত চলে যাওয়ার পরেই ইজারাদাররা আগের মতোই চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হচ্ছে।জরিমানার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। তবে জরিমানার এই স্বল্প অংক নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। পশুর হাটে এই প্রকাশ্য চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর নজরদারি ও ইজারা বাতিলের মতো দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।সঠিক উদ্যোগ না নিলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে না।