জুন ১১, ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পানি উন্নয়ন বোর্ড তিস্তা ব্যারাজের সবকটি অর্থাৎ ৪৪টি জলকপাট খুলে দিয়েছে।
নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলে বসবাসরত মানুষজন এখন বন্যা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। কখন ভারতের গজলডোবা ব্যারাজ থেকে পানি ছেড়ে দেওয়া হবে, সেই চিন্তায় জেলার হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম, আদিতমারী ও সদর উপজেলার মানুষ নির্ঘুম রাত পার করছেন। বৃষ্টির চেয়ে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলই বন্যার মূল কারণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ডালিয়া পয়েন্টের পানির লেভেল পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সকাল থেকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে পানি বাড়ছে। তবে এখনো তা বিপৎসীমার নিচেই আছে।
স্থানীয় কৃষক কফিল উদ্দিন জানান, তিস্তার পানি একবার বাড়ছে তো আরেকবার কমছে। যে কোনো সময় নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে রাস্তাঘাট ডুবে মানুষজন পানিবন্দি হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক স্থানীয় বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, বন্যা এলেই তারা আতঙ্কে থাকেন। ভোট এলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা শোনা যায়, কিন্তু বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। তিস্তা পাড়ের মানুষ এই দীর্ঘসূত্রতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিনাতিপাত করছেন।
দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদী তীরবর্তী মানুষদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন