জুলাই ১৪, ২০২৬, ০৯:০২ পিএম
অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে দেশে এখন পর্যন্ত ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্যোগে আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আশ্রয়ের জন্য সরকার দেশজুড়ে ৩২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে, যেখানে বর্তমানে ১০ হাজার ৮৫৪ জন মানুষ অবস্থান করছেন।মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেল ৪টা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান তুহিন জানান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় বন্যার মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নের সংখ্যা ৩৩৪ এবং পৌরসভা ১২টি।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে কক্সবাজারে। জেলাটিতে ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১৮ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৫ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের মধ্যে কক্সবাজারে ২৪ জন এবং চট্টগ্রামে ১২ জন রয়েছেন।
আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ভিড় বাড়ছে। চট্টগ্রামে ৭০টি কেন্দ্রে তিন হাজার ১৪০ জন এবং রাঙামাটির ৪০টি কেন্দ্রে তিন হাজার ১৫৮ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। বান্দরবানের ৫৪টি কেন্দ্রে দুই হাজার ৫৮৪ জন এবং মৌলভীবাজারের ১০টি কেন্দ্রে এক হাজার ৭৪৫ জন অবস্থান করছেন। দুর্যোগ মোকাবিলায় সেনাসদস্যসহ প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে।
বন্যাদুর্গত এলাকায় মানবিক সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ৭ জুলাই থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত সাতটি জেলার জন্য এক কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং তিন হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ বরাদ্দ হিসেবে ৬৪ জেলার জন্য মোট চার কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং আট হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন