জুলাই ২০, ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম
অন্য সব চাষীরা যেভাবে সার বরাদ্দ পান, চা চাষীরাও এখন থেকে একইভাবে স্বাভাবিক ভর্তুকির সার বরাদ্দ পাবেন। সোমবার বিকেলে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ। পঞ্চগড় আঞ্চলিক চা বোর্ডের কার্যালয় ও জেলা প্রশাসনের যৌথ আয়োজনে এই সভার উদ্দেশ্য ছিল চা শিল্পের বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা।
চায়ের গুণগত মান বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে এই শিল্পের বাজারমূল্য বাড়ছে।সভায় চা বোর্ডের চেয়ারম্যান জানান, আগে চায়ের গুণগত মান নিয়ে যে সমস্যা ছিল তা অনেকটাই কেটে গেছে এবং এখন মানসম্মত চা পাতা উৎপাদিত হচ্ছে। তবে শিল্পের অগ্রযাত্রাকে টেকসই করতে চোরাচালান রোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে চায়ের গুণগত মান রক্ষা এবং অবৈধ ব্যবসা ঠেকাতে কঠোর নজরদারির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এ সময় তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ের চাহিদা বিবেচনায় চা আইন প্রয়োজনে হালনাগাদ করা হবে, যা ভবিষ্যতে নতুন চা আইন হিসেবে কার্যকর হবে।
জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার আবু সাইম, চা বোর্ডের যুগ্মসচিব ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ ছাড়া এনবিআর কর্মকর্তা, ব্রোকার্স ও ওয়্যারহাউজের মালিক, ফ্যাক্টরি মালিকদের সংগঠন ও ক্ষুদ্র চা চাষীদের প্রতিনিধিরা এতে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন চা বোর্ডের পঞ্চগড় আঞ্চলিক কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমির হোসেন।
অংশগ্রহণকারীরা চা শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। ক্ষুদ্র চা চাষীরা জানান, সার বরাদ্দ নিশ্চিত হওয়ায় উৎপাদন খরচ কমবে, যা চাষীদের মুখে হাসি ফোটাবে। প্রশাসন ও চা বোর্ডের যৌথ প্রচেষ্টায় এই শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। সবশেষে চা শিল্পের আধুনিকায়নে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনকে একযোগে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন