রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

দক্ষিণ আফ্রিকায় আগুনে পুড়ে নিহত ছয় বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুলাই ২৮, ২০২৬, ১১:৫০ পিএম

দক্ষিণ আফ্রিকায় আগুনে পুড়ে নিহত ছয় বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত

ছবি : সংগৃহীত

দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউন বা কোমানি শহরের একটি সুপারশপে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো ছয় জন প্রবাসী বাংলাদেশির আনুষ্ঠানিক পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলায় এবং একজনের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ সদরে। সুদূর প্রবাসে জীবিকার অন্বেষণে গিয়ে এমন আকস্মিক মৃত্যুর খবরে নিহতদের নিজ নিজ এলাকাসহ পুরো দেশে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদে চারপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।

জীবিকার টানে প্রবাসে পা জমানো তরুণদের এমন করুণ পরিণতি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা।স্থানীয় সূত্র ও প্রবাসীদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, কুইন্সটাউন এলাকার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে স্থানীয় সময় সোমবার রাতের প্রথম প্রহরে এই সর্বনাশা অগ্নিকাণ্ড ঘটে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নিহত ছয় প্রবাসীর পরিচয় হিসেবে জানা গেছে যে, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের ক্রোকেরচর গ্রামের ফাহিম, আপন আহমেদ এবং নুর মোহাম্মদ, একই এলাকার তৈলখিরার চরের ফয়সাল, ফতুল্লার বক্তাবলীর কানাইনগরের শাহিন এবং মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম পৌরসভার রাজিক বেপারী এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।

নিহত রাজিক বেপারীর পরিবার জানান যে, তিন কন্যাসন্তানের ভবিষ্যৎ উন্নত করার স্বপ্ন নিয়ে মাত্র আড়াই মাস আগেই ধারদেনা করে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। সেখানে একটি সুপারশপ ও ইলেকট্রনিক্স দোকানে কাজ করতেন তিনি, অথচ তার স্ত্রী বর্তমানে সন্তানসম্ভবা। অন্যদিকে আপন আহমেদের বাবা শোকে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছেন। সন্তান হারানোর এই বেদনাদায়ক পরিস্থিতিতে শোকাহত পরিবারগুলো সরকারের কাছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার এবং প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক সহায়তা প্রদানের জোর দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির জানান যে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে নিহতদের পরিবারের খোঁজখবর নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারিভাবে নির্ধারিত সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শেষ হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিস্তারিত জানা যাবে।