রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পঞ্চগড়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আটক ভারতীয় নাগরিক পুলিশে সোপর্দ

আবু সালেহ মোঃ রায়হান

আগস্ট ৯, ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম

পঞ্চগড়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আটক ভারতীয় নাগরিক পুলিশে সোপর্দ

ছবি: দিনাজপুর টিভি নিজস্ব প্রতিবেদক

পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলার বিরাজোত সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক এক ভারতীয় নাগরিককে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম দীপঙ্কর গোপ এবং তার বাড়ি ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ থানার কুকুরজান মহকুমার তসরপাড়া এলাকায়। চা বাগানের শ্রমিক হিসেবে কর্মরত পঁয়ত্রিশ বছর বয়সী ওই যুবক শনিবার সকালে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোববার বিকেলে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য তাকে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সোপর্দ করা হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা যায় যে শনিবার সকালে ওই ভারতীয় নাগরিক বিরাজোত সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের একটি আখ ক্ষেতে প্রবেশ করেন। এ সময় স্থানীয় গ্রামবাসী তাকে আটক করে তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবিকে খবর দেয়। পরবর্তীতে বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাকে হেফাজতে নেন এবং রাতভর কড়া পাহারায় রাখেন। 

এই ঘটনার পর শনিবার ও রোববার দুই দফায় বিজিবি ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফের কোম্পানি ও ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে আধঘণ্টাব্যাপী পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উভয় পক্ষ নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে।এর আগে গত বুধবার সকালে একই সীমান্ত এলাকায় তমিজ উদ্দিন নামের আটাত্তর বছর বয়সী এক বৃদ্ধ বাংলাদেশি নিজের হারিয়ে যাওয়া গরু খুঁজতে গিয়ে বিএসএফের হাতে আটক হন। স্থানীয়রা তাকে ফেরত দেওয়ার জোর দাবি জানালেও দুই দফা বৈঠকের পরও বিএসএফ তাকে ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায়। 

বিএসএফের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে ওই বাংলাদেশিকে কাঁটাতারের বেড়া কাটার অভিযোগে ভারতীয় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এই দাবির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে নীলফামারী ছাপ্পান্ন বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল তাইফুর হাসান মাহমুদ বলেছেন যে একজন শ্রবণপ্রতিবন্ধী ও হাঁটাচলায় অক্ষম বৃদ্ধের পক্ষে কাঁটাতার কাটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।ভারতীয় নাগরিককে আটকের বিষয়ে পঞ্চগড় সদর থানার পরিদর্শক আশীষ কুমার শীল জানিয়েছেন যে পুলিশে হস্তান্তরের পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।