সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) মৃত্যুর ঘটনায় নিজের শ্যালক ওবায়দুর রহমানকে সরাসরি দায়ী করেছেন নিহতের বাবা মাসুম বিল্লাহ। আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই অভিযোগ করেন এবং মেয়ের এই পরিণতির জন্য দায়ী শ্যালকের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। মাসুম বিল্লাহ বলেন, তাঁর মেয়েকে এই পরিস্থিতিতে ঠেলে দেওয়ার মূলহোতা ওবায়দুর রহমান।
তিনি অভিযোগ করেন, ওবায়দুর টাকার প্রলোভন দেখিয়ে সংসদ সদস্যের সঙ্গে তরুণীর সম্পর্ক তৈরি করিয়েছিলেন। সেই লোভ ও ষড়যন্ত্রের কারণেই আজ তাঁর মেয়েকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হয়েছে। তিনি নিজের শ্যালককে একজন অপরাধী আখ্যা দিয়ে বলেন, তাঁর পুরো পরিবার তছনছ হয়ে গেছে এবং তিনি ওবায়দুরের ফাঁসি দাবি করছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ আনা হয়েছে যে ওবায়দুর রহমান একসময় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, ওবায়দুর ভাগনিকে ব্যবহার করে প্রভাবশালীদের ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেন এবং চাকরি ও বিপুল অঙ্কের আর্থিক সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে নজরুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ের ব্যবস্থা করেন। পরবর্তীতে সংসদ ভবনের উল্টো পাশে অবস্থিত সরকারি ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়ে সংসদ সদস্য ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম মিলে ওই তরুণীর ওপর ক্রমাগত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে তাকে চরম পরিণতির দিকে ঠেলে দেন। মরিয়মের বাবার দায়ের করা মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।
মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাট থেকে সংসদ সদস্য ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে আটক করে পরে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়। মেয়ে কতদিন ধরে ওই সরকারি ফ্ল্যাটে বসবাস করছিলেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বাবা জানান যে বিয়ের পর থেকেই তিনি সেখানে অবস্থান করছিলেন। তবে মেয়ের ওপর কোনো নির্যাতন হতো কি না বা মেয়ে কখনো তাঁর কাছে কোনো অভিযোগ করেছিলেন কি না জানতে চাইলে বাবা জানান, মেয়ে তাঁর কাছে কোনো অভিযোগ করেনি।
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া হাতে লেখা বিভিন্ন চিরকুট সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, পুলিশ তাঁকে উদ্ধারকৃত চিঠিগুলো দেখিয়েছে। তবে সেগুলো মেয়ের হাতের লেখা কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত হতে পারেননি। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় ব্যবসার কাজে বাড়ির বাইরে থাকার কারণে মেয়ের হাতের লেখা তাঁর খুব একটা চেনা নেই। এই চিরকুটের বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. ফজলুল করিম।
তিনি জানান, উদ্ধার হওয়া চিরকুটগুলো ওই তরুণীর লেখা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। তবে হাতের লেখাটি নিশ্চিতভাবে তাঁরই কি না, তা সিআইডির অপরাধ তদন্ত বিভাগের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর জানা যাবে। সংসদ সদস্যের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের বিষয়ে নিহতের বাবা জানান, নজরুল ইসলাম সম্পর্কে তাঁর আপন খালু হন। বিয়ের পরেও তাদের মধ্যে নিয়মিত স্বাভাবিক কথাবার্তা হতো।
এর আগে গতকাল রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে ওই তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর টিকিটে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন গাজী নজরুল ইসলাম। চলতি বছর এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর একটি ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি দাবি করেছিলেন যে ওই নারী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। সেই ঘটনার জেরে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে গত ২২ জুলাই দল থেকে তাঁকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী। স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেওয়া হলেও এখনো তাঁর সংসদ সদস্য পদ বহাল রয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন