সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

দুর্গাপূজায় ৩ দিন সরকারি ছুটি ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৫, ০৩:৩২ পিএম

দুর্গাপূজায় ৩ দিন সরকারি ছুটি ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি

ছবি - সংগৃহীত

আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে অষ্টমী, নবমী ও দশমী—এই তিন দিন সরকারি ছুটির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। একই সঙ্গে তারা পূজার নিরাপত্তা জোরদার, প্রতিমা ভাঙচুর বন্ধ এবং প্রতিটি মন্দিরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবিও উত্থাপন করেছে। শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাবনা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় এই দাবিগুলো তুলে ধরা হয়।

গোলটেবিল আলোচনায় লিখিত বক্তব্যে মহাজোটের মুখপাত্র পলাশ কান্তি দে বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা পাঁচ দিনব্যাপী হলেও বর্তমানে মাত্র দুই দিন সরকারি ছুটি থাকে। এর ফলে অনেকেই পরিবার-পরিজনের সঙ্গে পূজার আনন্দ উপভোগ করতে পারেন না বা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনে সমস্যা হয়। তিনি সরকারের কাছে অবিলম্বে দুর্গাপূজায় তিন দিনের ছুটি নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান।

মহাজোটের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা শঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়, পূজা ঘিরে সাম্প্রদায়িক হামলার ঝুঁকি রয়েছে। বিগত বছরগুলোতে পূজার আগে ও পরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এবারও এরই মধ্যে চারটি জেলায় প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে নির্বাচন সামনে আসায় পূজামণ্ডপ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের স্থাপনাগুলো সাম্প্রদায়িক শক্তির লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।

মহাজোটের মূল দাবিগুলো হলো:

  • তিন দিনের ছুটি: দুর্গাপূজার অষ্টমী, নবমী ও দশমী—এই তিন দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করতে হবে।

  • সিসিটিভি ও নিরাপত্তা: প্রতিটি মন্দিরে সরকারি খরচে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং পূজার ১০ দিন আগে থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।

  • সেনাবাহিনীর টহল: গত বছরের মতো এবারও দুর্গাপূজায় দেশজুড়ে সেনাবাহিনীর টহল নিশ্চিত করতে হবে।

  • মনিটরিং সেল: দুর্গাপূজার নিরাপত্তা তদারকির জন্য একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে।

গোলটেবিল আলোচনায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আসলাম চৌধুরী, গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর-সহ আরও অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির তীব্র নিন্দা জানান।