সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৫, ১১:৪৪ এএম
ভোলার মনপুরায় এবার ইলিশের ভরা মৌসুমেও জেলেদের জালে কাঙ্ক্ষিত মাছ মিলছে না, এতে উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার জেলে পরিবার দিশেহারা। এর মধ্যেই আগামী ৩ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২৫ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত ইলিশ নিধন ও সংরক্ষণ নিষিদ্ধ করে সরকার ২২ দিনের বিশেষ অভিযান ঘোষণার খবরে উপকূলীয় অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও অস্থিরতা বিরাজ করছে জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের মাঝে।
পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে চরম হতাশা।জানা গেছে, গত বছর ১২ অক্টোবর থেকে নিষেধাজ্ঞা শুরু হলেও এবার তা এগিয়ে আনা হয়েছে। তবে জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা সরকারের এই নিষেধাজ্ঞার সময় পরিবর্তনের দাবি করছেন। তাদের অভিযোগ, ভরা মৌসুমে নদী ও সাগরে ইলিশ ধরা পড়েনি; এখন যখন কমবেশি ইলিশ দেখা মিলতে শুরু করেছে, তখনই সরকার মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
জনতা বাজার এলাকার সমুদ্রগামী টলারের জেলে রফিক জানান, গত দুই বছর নিষেধাজ্ঞা পালন করতে গিয়ে তার শতকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ বছর যা ইলিশ শিকার করে আয় হয়েছে, তা দিয়ে ঋণ শোধ করে হাতে কিছু থাকছে না। মাস্টারহাট এলাকার জেলে হোসেন মাঝি জানান, কিস্তির বোঝা মাথায় নিয়ে মেঘনায় জাল ফেলে এখন যখন ইলিশ
পড়তে শুরু করেছে, তখন এই নিষেধাজ্ঞার খবরে দেনা পরিশোধ করা এবং নিষেধাজ্ঞার সময় পরিবারের খরচ জোগাড় করা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।হাজিরহাট ঘাটের মাঝি আবব্দুর রব, মিজান, সফিজলসহ অনেক জেলে অভিযোগ করেন, নিষেধাজ্ঞার সময় তারা সরকারি সাহায্য পান না, ফলে সংসার চালাতে তাদের হিমশিম খেতে হয়।
মৎস্য ব্যবসায়ী হাবিব, হেলাল ও লিটন শাহ গত বছর ১২ অক্টোবর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও এই বছর ৩ অক্টোবর কেন দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারাও নিষেধাজ্ঞার সময় পরিবর্তনের দাবি করছেন।এ বিষয়ে মনপুরা উপজেলা মৎস্য অফিসের ক্ষেত্র সহকারী মো. মনির জানান, জেলেদের দাবি লালমোহন মৎস্য কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।
মনপুরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা লালমোহন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আলী আখতার জানান, নদীতে আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে ইলিশের সংরক্ষণ কমে গেছে। তবে মা ইলিশ রক্ষা করা গেলে আগামীতে ইলিশের দেখা মিলবে। তাই সরকারের নিষেধাজ্ঞা যাতে সঠিকভাবে পালন করা হয়, সে বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় আগামী ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে ২২ দিনের এই বিশেষ অভিযান চলবে। এ সময় ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বিপণন ও মজুত নিষিদ্ধ থাকবে। এই অভিযানে মৎস্য কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অংশ নেবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন