রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

শহীদ আবরার বাংলাদেশের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক: ডাকসু ভিপি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৩, ২০২৫, ১০:৫৪ এএম

শহীদ আবরার বাংলাদেশের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক: ডাকসু ভিপি

ছবি - সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম শহীদ আবরার ফাহাদকে বাংলাদেশের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, আবরার ছিলেন আধিপত্য ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমাদের প্রেরণার বাতিঘর, আর এই কারণেই তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার রায়ডাঙ্গা গ্রামের গোরস্তানে আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ এবং ছাত্রশিবির ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আবু সাদিক কায়েম মনে করেন, শহীদ আবরার ফাহাদের সেই প্রতিবাদ থেকেই বাংলাদেশের প্রতিটি ক্যাম্পাসে গণজাগরণ তৈরি হয়েছে। তিনি বিগত ১৬ বছরের শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন, সেই সময়ে ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস চালিয়ে শিক্ষার্থীদের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। যেকোনো ব্যক্তি আধিপত্য বা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কথা বললেই তাকে হত্যা করা বৈধ হয়ে উঠেছিল।

তিনি বলেন, "বাংলাদেশ কার্যত ভারতের এক সাবলেট উপনিবেশে পরিণত হয়েছিল, যেখানে ভারতের ইচ্ছামতো সবকিছু চলেছে।"ভিপি সাদিক জোর দিয়ে বলেন, "শহীদ আবরার ভাই যে প্রতিবাদের পথ দেখিয়েছেন, সেটির ভিত্তিতেই জুলাইয়ে বিপ্লব হয়েছে। আবরার যে চেতনা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে লড়েছেন, জুলাইয়ের শহীদ ও গাজীরাও সেই আকাঙ্ক্ষা ধারণ করেছিলেন।"

অর্থনৈতিক শোষণ, রাজনৈতিক নিপীড়ন ও সাংস্কৃতিক গোলামির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে আমাদের, আর এই অবস্থার মধ্যেই আবরার ফাহাদ প্রতিবাদ করে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন।ডাকসু ভিপি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ডাকসুর পক্ষ থেকে ৭ অক্টোবরকে 'আগ্রাসনবিরোধী দিবস' হিসেবে ঘোষণা করা হবে। এই দিনটি ছিল বাংলাদেশ-ভারত অসম চুক্তি ও পানি আগ্রাসনের প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দেওয়ার কারণে ছাত্রলীগের হামলায় আবরার ফাহাদের নিহত হওয়ার দিন।

তিনি সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন ও দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অনুরোধ করেছেন, যেন এই দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

আবু সাদিক কায়েম বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, "জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা যথাযথভাবে ধারণ করছে না অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।" তিনি অনুরোধ করেন, শহীদরা যে স্বপ্ন নিয়ে জীবন দিয়েছেন, সেই স্বপ্ন যেন বাস্তবায়ন করা হয়। অন্যথায়, খুনি হাসিনা বা পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদীদের যে পরিণতি হয়েছে, তার চেয়েও ভয়াবহ পরিণতি তাদের হবে।