অক্টোবর ৪, ২০২৫, ১২:৫১ পিএম
ইলিশের প্রজনন রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার হাজারো জেলে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। ৩ অক্টোবর শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ২৫ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত এই ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এই সময়ে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা, পরিবহন, মজুত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।মোংলা উপজেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় সরকারি নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৬ হাজার ৭৯৫ জন।
এদের মধ্যে মাত্র ১ হাজার ১৫০ জন জেলের জন্য ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।শনিবার সকাল থেকে সরেজমিনে পশুর নদী, জয়মনি ও চিলা বাজার এলাকায় দেখা গেছে, শতভাগ জেলে ও ট্রলার মালিক সরকারের নির্দেশ মেনে জাল ও ট্রলার তীরে তুলে রেখেছেন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেকে আগেই নদী থেকে ফিরে সরঞ্জাম পরিষ্কারে ব্যস্ত।জেলে মো. বেলায়েত মাঝি ও ইলিয়াস মাঝি বলেন, ভরা মৌসুমেও তারা কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পাননি।
সম্প্রতি কিছু মাছ পাওয়া শুরু হয়েছিল, তখনই নিষেধাজ্ঞা এলো। কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, ঋণের টাকায় জাল ও ট্রলার তৈরি করা হয়েছে। কিস্তি বন্ধ না থাকলে পরিবার চালানো কঠিন হবে।স্থানীয় জেলে মো. আজিজুল ও বাদল জোর দিয়ে বলেন, তারা চান মা ইলিশ রক্ষা পাক এবং এই অভিযানকে তারা সহযোগিতা করেন।
কিন্তু এই সময়ে আয় বন্ধ থাকায় তাদের একটাই দাবি— যেন এনজিওগুলোর কিস্তি বন্ধ থাকে। তারা আরও দাবি করেন, দ্রুত যেন তাদের জন্য বরাদ্দ চাল বিতরণ করা হয়, কারণ কিস্তির চাপে অনেকে বাধ্য হয়ে নদীতে নামতে পারে।মোংলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন, নিষেধাজ্ঞা সফল করতে উপজেলা পর্যায়ে কমিটির মিটিং হয়েছে এবং অভিযান পরিচালনার জন্য টিম প্রস্তুত। বরাদ্দ পাওয়া চাল দ্রুত বিতরণ শুরু হবে।
তবে কিস্তি বন্ধের বিষয়ে তিনি জানিয়েছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি।চলতি অর্থবছরে মোংলায় ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন। মৎস্য বিভাগ আশা করছে, মা ইলিশ সংরক্ষণে এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন হলে আগামী মৌসুমে ইলিশ আহরণে ইতিবাচক ফল আসবে। এখন দেখার বিষয়, কিস্তি বন্ধের দাবি ও খাদ্য সহায়তা বিতরণের প্রক্রিয়া কত দ্রুত সম্পন্ন হয়।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন