অক্টোবর ২৬, ২০২৫, ০৬:৩১ পিএম
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. আবদুল মোমেন বলেছেন, যশোরের কিছু রাজনৈতিক এলিট ব্যক্তি স্বৈরাচারের দোসর এবং বিভিন্ন মামলার আসামিদের সীমান্ত পার হয়ে ভারতে পালাতে সহায়তা করছেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এ ধরনের ঘটনা চলতে থাকলে রাষ্ট্রের প্রত্যাশা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে এবং এটি অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। আজ রোববার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে যশোর শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে দুর্নীতি দমন কমিশন আয়োজিত এক গণশুনানিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. মোমেন বিগত সরকারের পতনের মূল কারণ হিসেবে দুর্নীতিকে চিহ্নিত করে বলেন, সামনে একটি সুষ্ঠু ও আনন্দঘন পরিবেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সেই নির্বাচনকে সফল করতে এবং দেশটাকে ভালো রাখতে হলে জনগণকে অবশ্যই সৎ প্রার্থী বাছাই করতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি গত ১৫ বছরের ইতিহাস দেখি, সরকারের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি প্রবেশ করেছিল। বিগত সরকারের এই করুণ পরিণতির পেছনের মূল কারণই ছিল লাগামহীন দুর্নীতি। তাই জনগণকে দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে, আর সেটিই হবে রাষ্ট্রের প্রতি সুবিচার।’
দুদক চেয়ারম্যান আরও বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন একা দুর্নীতি একেবারে নির্মূল করতে পারবে, এমনটা প্রত্যাশা করা ঠিক নয়। তবে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দুর্নীতি অবশ্যই কমানো সম্ভব। তিনি গণশুনানির উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘আমরা শুনানির মাধ্যমে জনগণকে কর্মকর্তাদের মুখোমুখি করে দিচ্ছি না, বরং দুই পক্ষের মধ্যে একটি সম্পৃক্ততা ও জবাবদিহিতার পরিবেশ তৈরি করছি। এতে দুর্নীতি কমানো সম্ভব হবে।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই যশোর থেকেই ন্যায় ও দুর্নীতিমুক্ত একটি নতুন যাত্রা শুরু হবে।
সময়ের সাথে সাথে দুর্নীতির ধরনও পরিবর্তন হচ্ছে উল্লেখ করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, যতই দিন যাচ্ছে, দুর্নীতির কৌশল পাল্টাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘মানুষ পারাপার করেও যে টাকা আদায় করা যায়, দুর্নীতি করা যায়, এই যশোরে এসেই নতুন এই দুর্নীতির ধরনের কথা শুনলাম।’ 'রুখবো দুর্নীতি, গড়বো দেশ, হবে সোনার বাংলাদেশ' শীর্ষক এই গণশুনানির আয়োজন করে দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত যশোর জেলা কার্যালয়।
শুনানিতে জেলার ৩৭টি সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি দপ্তরের বিরুদ্ধে পাওয়া ৭৫টি অভিযোগের ওপর শুনানি গ্রহণ করা হয়। শুনানি শেষে কিছু অভিযোগের বিষয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ এবং কিছু বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেন দুদক চেয়ারম্যান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুদকের কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন