রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

লোকসানের মুখে কাহারোলের আমন ধান চাষীরা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ২৯, ২০২৫, ০৭:৩৫ পিএম

লোকসানের মুখে কাহারোলের আমন ধান চাষীরা

ছবি-দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় বর্তমানে ৬টি ইউনিয়নেই আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ চলছে। ধান চাষী কৃষকরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধান ঘরে তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

তবে এ বছর হঠাৎ করে অসময়ে বৃষ্টিপাত ও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে চলতি আমন মৌসুমে আমন ধানের তেমন একটা আশানুরূপ ফলন হয়নি বলে অনেক কৃষক জানিয়েছেন।

এদিকে, বাজারে আমন ধানের দাম কম থাকায় লোকসানের মুখে পড়েছেন অনেক আমন ধান চাষী। এর ফলে উৎপাদন খরচ উঠানো তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। কৃষি বিভাগ লোকসান কাটাতে মৌসুমের শেষের দিকে ধান বিক্রির পরামর্শ দিচ্ছেন।

উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের আমন ধান চাষী মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, "আমি ৪ বিঘা জমিতে ৫১ জাতের ধান চাষাবাদ করেছি। এবার বৃষ্টি ও বাতাসে ধানের গাছ হেলে পড়ার কারণে ফলন কম হয়েছে। প্রতি বিঘা (৫০ শতক) জমিতে মাত্র ২৫ মণ ধান হয়েছে।"ডাবোর ইউনিয়নের কৃষক নরেশ চন্দ্র রায় জানান, তিনি ১৮ বিঘা জমিতে স্বর্ণ জাতের ধান চাষ করেছিলেন। ধান পড়ে যাওয়ার কারণে ফলন কিছুটা বিপর্যয় হয়েছে।

একই এলাকার কৃষক রবীন্দ্র নাথ রায় জানান, বিনাধান-৩৪ জাতের যে ধান বাতাসে দাঁড়িয়ে ছিল সেগুলোতে ব্যাপক হারে ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ দেখা গেছে। যে সকল ধান পড়ে গেছে, সেগুলোতে বিঘা প্রতি ১৫ থেকে ১৬ মণ ফলন হয়েছে।উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ১৫ হাজার ৭৪০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষাবাদ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৭৫ ভাগ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার প্রতি বিঘায় ৬ থেকে ৭ মণ ধান কম উৎপাদন হয়েছে।

বর্তমানে বাজারে ধানের প্রকারভেদে প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ১,১০০ টাকা থেকে ১,২২০ টাকা দরে। অনেক কৃষক জানান, হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে শ্রমের ধান এই দামে বিক্রি করে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচ উঠানোই মুশকিল হচ্ছে। বর্গাচাষের জমির দামসহ এক বিঘা জমিতে তাদের খরচ পড়েছে প্রায় ২৫ হাজার টাকা। অথচ ধান বিক্রি করে সর্বোচ্চ দাম পাওয়া যাচ্ছে ২৪ হাজার টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।কৃষকেরা আরও বলেন, সারসহ কৃষির উপকরণের দাম দিন দিন বেড়েই চলেছে। এই অবস্থায় পরবর্তী ফসল আবাদ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেক কৃষক।

উপজেলা কৃষি অফিসার (অঃদা) মো. খুরশিদ হাসান জানান, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় ৫১ হাজার ২৬৫ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। তিনি কৃষকদের হতাশ না হয়ে মৌসুমের শেষের দিকে তাদের অতি কষ্টের ফসল ধান বিক্রি করার জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন এবং এর ফলে ক্ষতি কিছুটা উঠে আসবে বলে তিনি আশাবাদী।