ডিসেম্বর ৬, ২০২৫, ০৭:২৭ পিএম
আজ ৬ ডিসেম্বর, দিনাজপুরের বীরগঞ্জ পাকিস্তানি হানাদারমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে বীর মুক্তিযোদ্ধারা বীরগঞ্জকে শত্রুমুক্ত করেন। এই দিনটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
বীরগঞ্জ হানাদারমুক্ত হওয়ার তিন দিন আগে, অর্থাৎ ৩ ডিসেম্বর, পাশের জেলা ঠাকুরগাঁও শত্রুমুক্ত হয়। এরপর পাকিস্তানি বাহিনী সৈয়দপুর (পাক বিহার) অভিমুখে পালিয়ে যাওয়ার সময় মুক্তি ও মিত্র বাহিনীর প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়ে।
হানাদার বাহিনী ও রাজাকাররা বীরগঞ্জ থেকে পিছু হটে বীরগঞ্জ-কাহারোল উপজেলা সীমান্তের দিনাজপুর-পঞ্চগড় মহাসড়কে ভাতগাঁও সেতুর পূর্ব প্রান্তে অবস্থান নেয়।
সেখানে তাদের সঙ্গে মুক্তিবাহিনীর তুমুল যুদ্ধে ভাতগাঁও সেতুর একাংশ ভেঙে যায়। এসময় মুক্তি ও মিত্রবাহিনীর বেশ কিছু বীরযোদ্ধা শহীদ হন।৫ ডিসেম্বর বিকেল ৪টায় মিত্র বাহিনীর বিমান হামলার মধ্য দিয়ে বীরগঞ্জ শত্রুমুক্ত হতে শুরু করে। সেই রাতেই মুক্তি ও মিত্রবাহিনী পুরো এলাকা পুরোপুরি দখল করে নেয়। পরদিন সকালে বীরগঞ্জের অলিগলিতে মুক্ত বাতাসে ওড়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। স্বাধীনতাযুদ্ধে বীরগঞ্জ ছিল দিনাজপুর ৬ নম্বর সেক্টরের অধীন। লে. কর্নেল কাজী নূরুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনীর হাবিলদার মোস্তাফিজুর রহমান বীরগঞ্জ ও খানসামার যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।
বীরগঞ্জ হানাদারমুক্ত দিবস উপলক্ষে ৬ ডিসেম্বর সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। পরে শহীদ মহসিন আলী ও শহীদ বুধারু বর্মনের স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক ও বীরগঞ্জ উপজেলা আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কবিরুল ইসলাম, অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতা এবং শিক্ষার্থীরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন