রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে বীরগঞ্জে প্রশাসনের অভিযান

মোঃ আরিফ ইসলাম

মার্চ ২৮, ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম

তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে বীরগঞ্জে প্রশাসনের অভিযান

বীরগঞ্জে অভিযানে তেল জব্দ। ছবি-দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং কৃত্রিম সংকট রোধে জোরালো অভিযান শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে উপজেলার শিবরামপুর ইউনিয়নের ধনগাঁও গ্রামে এক বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মজুতকৃত তেল জব্দ করা হয়েছে। 

একই সাথে উচ্চমূল্যে তেল বিক্রির অপরাধে এক ব্যক্তিকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।সাম্প্রতিক সময়ে বীরগঞ্জের অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ ও কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। 

এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তেল মজুত করে চড়া দামে বিক্রি করছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। দুপুরে শিবরামপুর ইউনিয়নের ধনগাঁও গ্রামের পরিতোষ রায়ের বাড়িতে হানা দিয়ে অবৈধভাবে মজুত করা ৩৫০ লিটার ডিজেল এবং ৩০ লিটার অকটেন উদ্ধার করা হয়। 

অপরাধের সত্যতা পাওয়ায় বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমা খাতুন অভিযুক্ত পরিতোষ রায়কে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। জব্দকৃত তেল পরবর্তীতে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়।এর আগে শনিবার সকালে বীরগঞ্জ পৌর শহরের জননী ফিলিং স্টেশনে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। এ সময় তেলের পাম্পে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তদারকি করা হয়। 

অভিযানে বৈধ কাগজপত্র ও হেলমেট না থাকায় ১৬ জন মোটরসাইকেল আরোহীকে মোট ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এই বিশেষ অভিযানে বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস টিম সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমা খাতুন জানান, উদ্ধার করা তেল বিক্রির অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন যে উপজেলার সবকটি ফিলিং স্টেশন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। 

কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি বা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে এবং খোলাবাজারে জ্বালানি তেলের অবৈধ কেনাবেচা রোধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানে সাধারণ ক্রেতা ও কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।