এপ্রিল ৫, ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
দিনাজপুরের হিলিতে সরকার নির্ধারিত নতুন মূল্যে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার মিলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকার এলপিজি গ্যাসের দাম বাড়িয়ে নতুন দর নির্ধারণ করে দিলেও স্থানীয় বাজারে সেই দামে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন এলপিজি চালিত সিএনজিচালকরা।
গ্যাসের দাম বাড়লেও যাত্রীভাড়া না বাড়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা। তবে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে গত ২ এপ্রিল সরকার প্রতি সিলিন্ডারে ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে নতুন মূল্য ১ হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। ওইদিন সন্ধ্যা থেকেই নতুন এই দাম কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হিলির খুচরা বাজারগুলোতে এখনো সেই দামে এলপিজি গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।
খুচরা পর্যায়ে কোম্পানিভেদে প্রতি সিলিন্ডার ১ হাজার ৯০০ থেকে ১ হাজার ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, তারা আগের চেয়ে বেশি দামে কিনছেন বলেই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।আগে ১২ কেজির প্রতি সিলিন্ডার এলপিজির দাম ছিল প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা। সরকারি ঘোষণার পর তা এক লাফে প্রায় ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানান স্থানীয় ভোক্তারা। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে হিলি-বিরামপুর রুটে সিএনজি চলাচলের সংখ্যাও নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। আগে এই রুটে প্রতিদিন প্রায় ২৫টি সিএনজি চলাচল করলেও তেলের দাম ও গ্যাসের বাড়তি দরের কারণে বর্তমানে মাত্র ১০ থেকে ১৫টি সিএনজি চলছে।
হিলি এলাকার সিএনজিচালক আলতাফ হোসেন বলেন, বর্তমানে সড়কে এমনিতেই যাত্রী সংখ্যা কম। তার ওপর গ্যাসের দাম এভাবে বেড়ে যাওয়ায় তাদের আয়-রোজগার প্রায় বন্ধের পথে। তার ভাষায়, আগে যে গ্যাসের সিলিন্ডার ছিল ১৫০০ টাকা, এখন তা ১৯০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। প্রতি সিলিন্ডারে ৪০০ টাকা বাড়তি খরচ জোগাতে গিয়ে চালকরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন।
আরেক চালক খলিলুর রহমান জানান, বর্তমানে বেশি দামে গ্যাস কিনে গাড়ি চালিয়ে তাদের সংসার চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগে প্রতি লিটার গ্যাসের দাম ছিল ৬২ টাকা, যা বর্তমানে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার তিনি আজই ১ হাজার ৯০০ টাকায় কিনেছেন। ভাড়া না বাড়লে গাড়ি চালানো বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে বেশি মূল্যে যারা গ্যাস বিক্রি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। নিয়মিত বাজার তদারকির মাধ্যমে মূল্য নিয়ন্ত্রণ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও পরিবহন শ্রমিকরা আশা করছেন, দ্রুত এই অস্থিতিশীল বাজার পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটবে এবং সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত হবে। অন্যথায় হিলি অঞ্চলের পরিবহন খাতে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কৃত্রিম সংকট রোধে এখনই কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন