বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বীরগঞ্জে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক নাটিকা প্রদর্শন

মোঃ আব্দুর রাজ্জাক

এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম

বীরগঞ্জে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক নাটিকা প্রদর্শন

ছবি-দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমের মতো সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক সচেতনতামূলক নাটিকা প্রদর্শিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ২৩ এপ্রিল সকালে উপজেলার ভোগনগর ইউনিয়নের এলাইগাঁ গ্রামে এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ বীরগঞ্জ এরিয়া প্রোগ্রামের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে।

ভোগনগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় পুরোহিত হেমন্ত কুমার রায় এবং বিশিষ্ট সমাজকর্মী গণেশ রায়। 

এছাড়াও ওয়ার্ল্ড ভিশনের মাঠ পর্যায়ের কর্মীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আয়োজক সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয় যে গ্রামীণ পর্যায়ে মানুষের মানসিকতা পরিবর্তনেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কর্মসূচিতে উপস্থিত বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম দেশের উন্নয়ন ও শিশুদের সোনালী ভবিষ্যৎ গড়ার পথে প্রধান অন্তরায়। এই কুপ্রথাগুলো সমাজ থেকে চিরতরে নির্মূল করতে হলে কেবল আইন দিয়ে হবে না, বরং প্রতিটি পরিবার ও সমাজের সচেতনতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। একটি শিক্ষিত ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই বলে তারা উল্লেখ করেন। এর আগে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে সচেতনতার অভাবেই অনেক শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

গ্রামীন পরিবেশ ও সাধারণ মানুষের বোঝার সুবিধার্থে নাটকের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমের ভয়াবহ ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরা হয়। গল্পের ছলে শিশুদের অধিকার ও পড়াশোনার গুরুত্ব সম্পর্কে আলোকপাত করা হয় যা উপস্থিত দর্শকদের গভীরভাবে স্পর্শ করে। নাটিকা শেষে উপস্থিত এলাকাবাসী বাল্যবিবাহ রুখতে এবং শিশুদের শ্রম থেকে বিরত রাখতে ঐক্যবদ্ধ থাকার শপথ গ্রহণ করেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, নাটকের এই পদ্ধতিটি সরাসরি মানুষের মনের ওপর প্রভাব ফেলেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, গ্রামে এ ধরনের নাটিকা প্রদর্শন সাধারণ মানুষের চিন্তাধারা বদলে দিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। তারা ভবিষ্যতে এই কার্যক্রমের আওতা আরও বিস্তৃতি করার দাবি জানান যাতে প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।