এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত কমেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, হাটবাজারে নতুন ‘হালি’ জাতের পেঁয়াজের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম এখন নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে। সোমবার সকালে ফুলবাড়ী পৌর বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে প্রতিটি দোকানে নতুন হালি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা মাত্র এক সপ্তাহ আগে ছিল ৪০ টাকা।
অন্যদিকে মৌসুমের শেষ দিকে থাকা পুরোনো ‘মুড়িকাটা’ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ২৬ টাকা কেজি দরে।স্থানীয় পাইকারি ব্যবসায়ী জয়ন্ত সাহা ও আইয়ুব আলী জানিয়েছেন, মুড়িকাটা পেঁয়াজের মৌসুম শেষ হওয়ায় বাজারে এর সরবরাহ গত সপ্তাহে কমে গিয়েছিল।
ফলে সেই সময় দাম কিছুটা বাড়লেও বর্তমানে নাটোর, রাজশাহী ও পাবনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যাপ্ত নতুন হালি পেঁয়াজ বাজারে আসায় দাম দ্রুত কমে গেছে। মূলত মোকামগুলোতে এখন পেঁয়াজের আমদানি অনেক বেশি।
আগে প্রতি মণ পেঁয়াজ ১০০০ থেকে ১৩০০ টাকায় কিনতে হলেও এখন তা ৮০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। সরবরাহের এই ধারা অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে দাম বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন খুচরা বিক্রেতারা।পেঁয়াজের দাম কমায় বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। শহরের স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পেঁয়াজের দাম হাতের নাগালে আসায় এখন প্রয়োজনমতো ব্যবহার করা যাচ্ছে, যা তাদের মতো সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বাজার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ হাছান জানিয়েছেন, বাজারে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি রয়েছে। কেউ যেন অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়িয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের ফলে পণ্যের সরবরাহ ও দাম স্বাভাবিক থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, প্রশাসনের এই তদারকি অব্যাহত থাকলে অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও স্থিতিশীল থাকবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন