এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় কৃষির আধুনিকায়ন, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও টেকসই করার লক্ষ্যে ‘পার্টনার কংগ্রেস’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে স্থানীয় শালবন মিলনায়তনে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের এই বিশেষ কংগ্রেসের আয়োজন করা হয়।
মূলত প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্পের আওতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমা খাতুনের সভাপতিত্বে এই কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ আফজাল হোসেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শরিফুল ইসলাম।
এ সময় তিনি এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ও মাঠপর্যায়ে এর প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফজলে ইবনে কাওছার ও উপজেলা সমবায় অফিসার আহাদ আলী মন্ডল। এ ছাড়াও পাল্টাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা এই আয়োজনে অংশ নেন।অনুষ্ঠানে বক্তারা কৃষিখাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
তারা জানান, পার্টনার প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষিতে পুষ্টিমান সংযোজন করা এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ ও নিয়মিত প্রশিক্ষণের ফলে স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বাড়ছে, যা সরাসরি তাদের পারিবারিক আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
এই প্রকল্পের সুফল ভোগ করা স্থানীয় কৃষকরাও তাদের অভিজ্ঞতার কথা সভায় তুলে ধরেন। বীরগঞ্জ উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের কৃষক গোলাম মোস্তফা জানান, পার্টনার প্রকল্পের মাধ্যমে তারা আধুনিক চাষাবাদের ওপর হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন। এতে ফসলের উৎপাদন খরচ আগের চেয়ে কমছে এবং রোগবালাই দমনে তারা আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারছেন। পুষ্টিকর ফসল চাষের মাধ্যমে কৃষকরা নিজেদের পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাজারজাতকরণের মাধ্যমে আর্থিকভাবেও লাভবান হচ্ছেন।
কংগ্রেস শেষে অংশগ্রহণকারীরা এই প্রকল্পের কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান। তাদের মতে, সরকারি এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং কৃষকরা প্রকৃত অর্থে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও স্থানীয় কয়েকশ প্রান্তিক কৃষক-কিষাণীর উপস্থিতিতে এই আয়োজনটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে বীরগঞ্জ এলাকার কৃষি ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন