বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

খানসামায় বাল্যবিয়ে ও যৌন হয়রানি রোধে সাইকেল র‍্যালি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ১১:০৫ পিএম

খানসামায় বাল্যবিয়ে ও যৌন হয়রানি রোধে সাইকেল র‍্যালি

ছবি-দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় বাল্যবিয়ে, যৌন হয়রানি ও নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে এক ব্যতিক্রমী সচেতনতামূলক সাইকেল র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে উপজেলার ছাতিয়ানগড় স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। গ্রামীণ জনপদে বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক মনোবল গড়ে তুলতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বেসরকারি সংস্থা ‘নিজেরা করি’ ও ভূমিহীন সংগঠনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই র‍্যালিটি ছাতিয়ানগড় স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়। এরপর র‍্যালিটি ওই এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে আওকরা মসজিদ উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। 

এ সময় দুই চাকার সাইকেলে চড়ে একদল কিশোর-কিশোরী প্ল্যাকার্ড ও স্লোগানের মাধ্যমে বাল্যবিয়ে ও যৌন হয়রানি বিরোধী বার্তা স্থানীয় মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়।

র‍্যালি শেষে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেখানে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও উপস্থিত বক্তারা সামাজিক ব্যাধি হিসেবে বাল্যবিয়ে ও যৌন হয়রানির ভয়াবহতা তুলে ধরেন। তারা বলেন, সমাজের উন্নয়ন ও নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে তৃণমূল পর্যায়ে এই সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া জরুরি। সমাবেশে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে বাল্যবিয়ে না করার এবং এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার শপথ গ্রহণ করে। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে বাল্যবিয়ে বিরোধী একটি সচেতনতামূলক নাটিকাও পরিবেশন করা হয়।

অনুষ্ঠানে আঙ্গারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা আহমেদ শাহ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জমিরউদ্দীন শাহ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক জীতেন্দ্র চন্দ্র রায় এবং গোয়ালডিহি বি এম কলেজের প্রভাষক দয়ারাম চন্দ্র রায়। এনজিও প্রতিনিধি হিসেবে ‘নিজেরা করি’ সংস্থার অঞ্চল সমন্বয়ক শিউলী খাতুন ও রাজশাহী বিভাগীয় সমন্বয়ক পবিত্র সরকারসহ দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী এই কর্মসূচিতে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এমন কর্মসূচি শুধু শিক্ষার্থীদের সচেতনই করে না, বরং স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যেও ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করে। শিক্ষার্থীরা যখন নিজেরা রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানায়, তখন সামাজিক দায়বদ্ধতা আরও দৃঢ় হয়। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই সাইকেল র‍্যালির প্রভাব স্থানীয় পর্যায়ে বাল্যবিয়ে ও যৌন হয়রানির ঘটনা কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।