রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ঘোড়াঘাটে পুলিশ প্রশাসনের নাকের ডগায় জুয়ার মহোৎসব: আড়ালে কারা?

ফাহিম হোসেন রিজু

মে ৯, ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম

ঘোড়াঘাটে পুলিশ প্রশাসনের নাকের ডগায় জুয়ার মহোৎসব: আড়ালে কারা?

ছবি-দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার বুলাকীপুর ইউনিয়নের কুলানন্দপুর গ্রামে করতোয়া নদীর পাড় এখন উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ জুয়ার আড্ডায় পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে এখানে কোটি কোটি টাকার জুয়া চললেও রহস্যজনক কারণে মূল হোতারা পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। মাঝেমধ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হলেও তা কেবল লোকদেখানো বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুলানন্দপুর গ্রামের দুর্গম নদী তীরকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। প্রতিদিন দুপুরে দিনাজপুর, গাইবান্ধা ও বগুড়াসহ পার্শ্ববর্তী ৫-৬টি জেলা থেকে সিএনজি ও মোটরসাইকেল নিয়ে পেশাদার জুয়াড়িরা এখানে সমবেত হয়। 

দুর্গম এলাকা হওয়ার সুযোগে সিন্ডিকেটের নিয়োগ করা নজরদারী কর্মীরা বা ‘লাইনম্যান’রা প্রশাসনের গতিবিধি আগেভাগেই জেনে যায়। ফলে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই মূল হোতারা সটকে পড়তে সক্ষম হয়।

জুয়ার আসরের পাশাপাশি নদীর তীরে নিয়মিত মাদকের আড্ডাও বসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে এলাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। স্থানীয় এক প্রবীণ বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জুয়াড়িরা মোটরসাইকেল নিয়ে বীরদর্পে গ্রামে ঢোকে। পুলিশ মাঝেমধ্যে এসে কয়েকজনকে ধরে নিয়ে যায়, কিন্তু মহাজনরা সব সময় নিরাপদ থাকে। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে সাধারণ গ্রামবাসী ও সাংবাদিকদের মামলা বা হামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, জুয়া খেলার জায়গাটি মূলত তিনটি থানার সীমান্ত এবং একটি দুর্গম চর অঞ্চল। যখনই অভিযান চালানো হয়, তখন তারা জায়গাটিকে পীরগঞ্জ থানার অধীনে বলে দাবি করে। মূলত সীমানা জটিলতার সুযোগ নিয়ে তারা এই কাজগুলো করছে। ওসি আরও জানান, প্রায় তিন মাস আগে সেখানে একটি বড় অভিযান চালানো হয়েছিল, যেখানে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে এবং মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে নদী পার হয়ে ওই এলাকায় যাওয়া ঠেকাতে নিয়মিত চেকপোস্ট বসানো হচ্ছে। তবে পীরগঞ্জ ও ঘোড়াঘাট থানার যৌথ অপারেশন ছাড়া এটি পুরোপুরি নির্মূল করা কঠিন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবানা তানজিন জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন। এলাকাটি সীমান্তবর্তী হওয়ায় সংশ্লিষ্ট তিনটি উপজেলার প্রশাসন ও পুলিশের সমন্বয়ে দ্রুত একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে। প্রয়োজনে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলা হলেও বাস্তবে কুলানন্দপুর চরে জুয়ার আসর বন্ধ না হওয়ায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, পুলিশের অভিযানগুলো কেবল রুটিন মাফিক না হয়ে যদি নিয়মিত ও কঠোর হয়, তবেই এই অপরাধ সাম্রাজ্য নির্মূল করা সম্ভব। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন এলাকাটি ঘিরে নতুন করে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।