রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬,

কাহারোলে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি পরিদর্শন করলেন এমপি মনজুরুল

মোজাম্মেল হক

মে ১৪, ২০২৬, ১০:০৮ পিএম

কাহারোলে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি পরিদর্শন করলেন এমপি মনজুরুল

ছবি-দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুর জেলাজুড়ে চলমান স্কুল ফিডিং কর্মসূচি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিতকরণ, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বৃদ্ধিতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কাহারোল উপজেলায় আয়োজিত এক বিশেষ পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনজুরুল ইসলাম। 

বৃহস্পতিবার সকালে কাহারোল উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।দিনাজপুরের ৫টি উপজেলায় ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন বা ইএসডিও এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। 

গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর থেকে জেলার ৩৯টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় একযোগে এই কার্যক্রম শুরু হয়। ৫টি উপজেলার মোট ৬০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ৬৯ হাজার ৭৭৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ অর্থাৎ ৬২ হাজার ৭৯৭ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত এই কর্মসূচির সুফল পাচ্ছে।

কাহারোল উপজেলায় আয়োজিত এই পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন ইএসডিও’র প্রোগ্রামার শাহ মো. আমিনুল হক। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. মোকলেদা খাতুন মীম, সহকারী কমিশনার ভূমি ইসতেহাক আহমেদ এবং কাহারোল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সেলিমুর রহমান। এ ছাড়াও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল মোতালেব, কাহারোল উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা বাদশা, সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক শামীম আলীসহ স্থানীয় শিক্ষক ও কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

কর্মসূচির আওতায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে ৫ দিন দুই পিস করে ৬০ গ্রাম ওজনের বনরুটি, ৪ দিন একটি করে সিদ্ধ ডিম এবং ১ দিন একটি করে কলা সরবরাহ করা হচ্ছে। এই পুরো কার্যক্রমের সুফল শুধু শিক্ষার্থীরাই পাচ্ছে না, বরং এর মাধ্যমে স্থানীয় নারীদের এক বড় কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। জেলার ৫টি উপজেলায় ২১০ জন স্থানীয় নারী উদ্যোক্তা এই ডিম ও কলা সরবরাহের কাজে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন। নিয়মিত মালামাল সরবরাহ করে একেকজন নারী উদ্যোক্তা সপ্তাহে গড়ে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা আয় করছেন। এতে তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবার ও সমাজেও তৈরি হচ্ছে নতুন মর্যাদা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ডিম ও কলার মতো পুষ্টিকর খাদ্য উপাদান শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি এবং মেধা বিকাশের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এটি শ্রেণিকক্ষে তাদের মনোযোগ ধরে রাখতে দারুণ সাহায্য করছে। ফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং সরকারি বিদ্যালয়ের প্রতি অভিভাবকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।বর্তমানে কাহারোল উপজেলার ১২১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২ হাজার ৫৯৬ জন শিক্ষার্থী এই স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় সুবিধা পাচ্ছে। এই উপজেলায় সরবরাহের কাজে নিয়োজিত আছেন ৪৭ জন স্থানীয় নারী উদ্যোক্তা।

পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মো. মনজুরুল ইসলাম বলেন, শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে এই উদ্যোগ এক বড় ভূমিকা রাখছে। একটি সুস্থ, মেধাবী ও আলোকিত নতুন প্রজন্ম গঠনে এই স্কুল ফিডিং কর্মসূচি অত্যন্ত কার্যকর একটি পদক্ষেপ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবকরাও মনে করেন, এই মানবিক কার্যক্রম প্রত্যಂತ অঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় এক ইতিবাচক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন নিয়ে আসছে।