রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কোরবানির হাটে পশুর দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিনাজপুরের খামারিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

মে ২৪, ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম

কোরবানির হাটে পশুর দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিনাজপুরের খামারিরা

ছবি-দিনাজপুর টিভি

হাটে চাপ বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত দাম বলছেন না ক্রেতারা, দুশ্চিন্তায় খামারিপবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন দিনাজপুরের খামারিরা। গরুগুলোকে কোরবানির উপযুক্ত করতে দিনরাত পরিশ্রম করে মোটাতাজা করছেন একটু লাভের আশায়।খামারিদের অভিযোগ, পশু খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় গরু পালনের খরচ বেড়েছে, হাটে তুললেও এখন পর্যন্ত ব্যাপারীরা গরুর দাম কম বলছেন।

 জায়গা না থাকায় অনেকে ঈদের এক বা দুদিন আগে গরু কিনবেন এমন ক্রেতার সংখ্যাই বেশি।জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য মতে, দুই বছরের ব্যবধানে গবাদি পশু লালন-পালনে অভাবনীয় বিপ্লব ঘটেছে দিনাজপুরে। বর্তমানে গবাদি পশুর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ। 

জেলায় ১৩ উপজেলায় ৬২ হাজার ৪০৮ খামারি এ বছর চার লাখ ২৬ হাজার ২৩টি কোরবানিযোগ্য পশু লালন পালন করেছেন।কৃত্রিম উপায়ে নয়, প্রাকৃতিক খাবার ব্যবহার করে গরু মোটাতাজা করছেন দিনাজপুরের খামারিরা। 

খাদ্য, ওষুধসহ সব উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। তারপরও দিনরাত ভুসি, কাঁচা ঘাস, খৈল, চালের গুঁড়াসহ প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে লালন-পালন করছেন তারা। প্রতিদিন কোনো না কোনো হাটে তুলছেন ভালো দামের আশায়।খামারের শ্রমিকরা জানান, গরুগুলোকে প্রতিদিন সাবান-শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করানো, মলমূত্র দ্রুত অপসারণ করা। এ ছাড়া মশা-মাছির উপদ্রব ঠেকাতে স্প্রে কিংবা কয়েল ব্যবহার করা। এ ফার্মে সিলিং ফ্যানও লাগানো হয়েছে। মেশিনে ঘাস কেটে গরুকে খাওয়ানো হয়।

খামারি তোফাজ্জল হোসেন জানান, গরুগুলোকে দেশীয় খাবার দেয়া হয়। নিয়মিত চিকিৎসক দেখানো হয়। যাতে করে কোনো রকমের রোগবালাই আক্রমণ করতে না পারে। তবে এ বছর পশু খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় গরু পালনের খরচ বেড়েছে। তারপরও ভালো দাম পাবার আশায় শ্রম ও অর্থ দুটোই ব্যয় করছেন। ভারতীয় গরু না আসলে ঈদে ভালো দাম পাবেন বলে আশা করছেন এই খামারি।

দিনাজপুর সদর উপজেলার কমলপুর ইউনিয়নের দাইনুর গ্রামে রিপন অ্যাগ্রো ফার্মে কোরবানির জন্য ১২০টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ ফার্মটি প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানান ফার্মটির মালিক হাসিনা বেগম।তিনি বলেন, ‘তিন বছর আগে ফার্মটি চালু করা হয়েছে। এ বছর ফার্মে কোরবানিযোগ্য শাহিওয়াল জাতের ১২০টি গরু রয়েছে। এই খামারে এক লাখ ২০ হাজার থেকে শুরু করে ৪ লাখ টাকা দামের দেশি জাতের গরু রয়েছে।’

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রহিম বলেন, খামারিরা যেন লোকসানে না পড়েন, এ জন্য সবরকম সহযোগিতা দেয়ার কথা জানান তিনি।দিনাজপুর জেলায় এ বছর কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে চার লাখ ২৬ হাজার ২৩টি। তবে এবার জেলায় দুই লাখ ৭৩ হাজার ২৬২টি কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে। এখানে উদ্বৃত্ত থাকবে প্রায় এক লাখ ৫৩ হাজার পশু।