জুন ৩, ২০২৬, ০২:১৬ পিএম
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় তীব্র গরম ও চলমান মাঝারি তাপপ্রবাহের কারণে সাধারণ জনজীবন কার্যত সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বুধবার দুপুরের দিকে দিনাজপুরের আঞ্চলিক আবহাওয়া দপ্তরের কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
প্রখর রোদ, ভ্যাপসা গরম এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের খেটে খাওয়া ও দিনমজুর শ্রমজীবী মানুষের প্রতিদিনের দুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে।তীব্র এই তাপদাহের কারণে গ্রামীণ জনপদে একদিকে যেমন কৃষিশ্রমের স্থবিরতা এসেছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
একই সঙ্গে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর উদ্বেগজনকভাবে নিচে নেমে যাওয়ার কারণে ফুলবাড়ীর অধিকাংশ সাধারণ নলকূপ ও কৃষি সেচযন্ত্রে পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে যে প্রতি বছরই শুষ্ক মৌসুমে এই অঞ্চলে পানির স্বাভাবিক স্তর উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে নেমে যাওয়ার ফলে এমন সংকটময় পরিস্থিতি নিয়মিত তৈরি হচ্ছে। প্রচণ্ড তাপদাহ ও পানির এমন তীব্র সংকটের কারণে উপজেলায় সর্দি-জ্বর, ডায়রিয়া এবং পেটের ব্যথাসহ বিভিন্ন গরমজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. নূর-ই-আলম খুশরোজ আহমেদ আনন্দ জানিয়েছেন যে হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন শতাধিক সাধারণ রোগী গরমজনিত বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন যে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে প্রদান করা হচ্ছে। এদিকে রোদের প্রচণ্ড উত্তাপের কারণে দিনের বেলায় রাস্তাঘাট প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ায় ভ্রাম্যমাণ শরবত ও কোমল পানীয়র দোকানগুলোতে বিকেলের দিকে কিছুটা ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জলবায়ুর এমন আকস্মিক পরিবর্তন প্রতিরোধে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভূগর্ভস্থ পানির অপচয় রোধে স্থানীয় জনগণকে আরও বেশি সচেতন হওয়া প্রয়োজন বলে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা নিবিড়ভাবে মন্তব্য করেছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন