জুলাই ৩১, ২০২৬, ১২:০৩ এএম
স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার জোত সাতনালা ও দক্ষিণ আলোকমহি গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে চলা ইছামতী নদীর ওপর কোনো স্থায়ী সেতু নির্মিত হয়নি। ফলে ফেকু বাবনিয়ার ঘাটে চরম দুর্ভোগ ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাঠের সাঁকোর ওপর দিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে এলাকার হাজার হাজার মানুষকে। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় এই চলাচল আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদীর দুই পাড়ে চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী কোনো সেতু না থাকায় এলাকার শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও জনপ্রতিনিধিরা কথা রাখেননি। অবশেষে বাধ্য হয়ে এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় এবং তৎকালীন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের উদ্যোগে দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে ২০২৪ সালে দুইশ ফুট দৈর্ঘ্যের এই কাঠের সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে এই সাঁকোটাই দুই পারের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা।
জোত সাতনালা গ্রামের বাবনিয়াপাড়ার কৃষক ফেরদৌস আলী ও ফয়েজউদ্দীন ফয়েজ জানান, ভোটের সময় প্রার্থীরা নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচন শেষ হলে কেউ আর সেতু নির্মাণের কথা মনে রাখেন না। আলোকমহি ইউনিয়নের দক্ষিণ আলোকমহি গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম জানান, বাপ-দাদারাও এই ঘাটে বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পার হয়েছেন। সাঁকোর পুরোনো তক্তাগুলোর কারণে চলাচলের সময় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। একটি স্থায়ী সেতু নির্মিত হলে চিরতরে এই দুর্ভোগ লাঘব হতো।
চিরিরবন্দরের সাতনালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. এনামুল হক শাহ্ বলেন, সাঁকোটির দুই পাশেই স্কুল ও মাদ্রাসা অবস্থিত। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করেন। এলাকার মানুষের এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন