আগস্ট ৩, ২০২৬, ১১:৫৪ এএম
একসময়ে গ্রামীণ জনপদের অনেক মেয়ের কাছে উচ্চশিক্ষা একটি অধরা স্বপ্ন ছিল। দূরের কলেজ, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারণে বহু মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশোনা থেমে যেত মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোলেই। সেই বাস্তবতায় আশার আলো হয়ে আত্মপ্রকাশ করে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার রানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ। প্রায় তিন দশক ধরে এই প্রতিষ্ঠানটি শুধু পাঠদানই নয়, বরং গ্রামীণ নারী শিক্ষা, আত্মবিশ্বাস ও ক্ষমতায়নের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে।
ঘোড়াঘাটের রানীগঞ্জ বাজার ও দুজ্বমুজ হাট সড়কের পাশে অবস্থিত এই কলেজটি ১৯৯৪ সালে এলাকার কয়েকজন শিক্ষানুরাগীর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়।সময়ের পরিক্রমায় এটি আজ উত্তর অঞ্চলের অন্যতম পরিচিত নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ে মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাঠদান চলছে এই প্রতিষ্ঠানে। কলেজটিতে বর্তমানে ৬২০ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত অধ্যয়ন করছে। গত তিন বছরে উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পরীক্ষায় এখানকার ছাত্রীরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।
এখানকার অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও অন্যান্য পেশায় দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।তাদের এই সাফল্য নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য দারুণ অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। পাঠ্যক্রমের সীমার বাইরে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা ও আত্মনির্ভরশীলতা গড়ে তুলতে নিয়মিত সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ফলে একজন শিক্ষার্থী শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলই নয়, একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবেও গড়ে ওঠার সুযোগ পায়।
কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির দিকনির্দেশনায় প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।সংশ্লিষ্টদের মতে, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মাহবুবুরের রহমানের নেতৃত্বে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং ক্যাম্পাসে দৃষ্টিনন্দন পুকুরঘাট নির্মাণসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে একটি নতুন ভবন নির্মাণের অনুমোদনও পাওয়া গেছে। বর্তমানে কলেজটিতে ২৩ জন সহকারী অধ্যাপক ও ১০ জন প্রভাষক কর্মরত রয়েছেন।
স্থানীয় শিক্ষাবিদ, সচেতন মহল ও অভিভাবকদের মতে, এই কলেজ প্রতিষ্ঠার ফলে গ্রামীণ পরিবারের মেয়েদের উচ্চশিক্ষার পথ অনেক সহজ হয়েছে।নিরাপদ পরিবেশ, নিয়মিত ক্লাস ও ভালো ফলাফলের কারণে প্রতিষ্ঠানটি এলাকায় ব্যাপক আস্থা ও সুনাম অর্জন করেছে। তাদের জোর দাবি, সরকার এই কলেজটি জাতীয়করণের উদ্যোগ নিলে উত্তর অঞ্চলের হাজার হাজার মেয়ের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও প্রসারিত হবে।গ্রামীণ নারীদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার যে স্বপ্ন নিয়ে এই কলেজের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তিন দশক পরেও সেই পথচলা থেমে নেই।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন