শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের তদন্ত

মোঃ আব্দুর রাজ্জাক

আগস্ট ১০, ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম

কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের তদন্ত

ছবি: দিনাজপুর টিভি নিজস্ব প্রতিবেদক

দিনাজপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কেনাকাটায় প্রায় এক কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগের তৃতীয় ধাপে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদকের একটি বিশেষজ্ঞ দল। সোমবার কেন্দ্রটিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরবরাহকৃত যন্ত্রাংশ সরেজমিনে যাচাই করতে এই অভিযান পরিচালিত হয়।পুরো বিষয়টি বর্তমানে দুদকের নিবিড় তদন্তাধীন রয়েছে।

বিগত সতেরো বছরে বিভিন্ন অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শেখ রাকিবুল হাসান, সাবেক অধ্যক্ষ মো. মাসুদ রানা এবং কম্পিউটার বিভাগের সাবেক প্রধান প্রশিক্ষক নিমাই কুমার দত্তসহ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই সোমবার প্রোগ্রামেবল লজিক কন্ট্রোলার বা পিএলসি মেশিন, ডিজিটাল স্মার্ট বোর্ড এবং স্বয়ংক্রিয় ফেব্রিক্স পরিদর্শন মেশিন পরীক্ষা করতে আসেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম জানান যে পিএলসি ও ডিজিটাল স্মার্ট বোর্ড সঠিকভাবে যাচাই করতে হলে ল্যাবে নিতে হবে অথবা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে আসতে হবে।

অন্যদিকে দিনাজপুর টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটের প্রধান প্রশিক্ষক শাহরিয়ার রায়হান ফেব্রিক্স মেশিনটি যাচাই শেষে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। দুদকের দিনাজপুর কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আতাউর রহমান সরকার নিশ্চিত করেছেন যে যন্ত্রাংশ ক্রয়ের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবেই এই বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে দুদকের উপসহকারী পরিচালক ও তদন্তকারী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

প্রাথমিক অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের তেইশ ফেব্রুয়ারি এই প্রতিষ্ঠানে প্রথম অভিযান চালায় দুদক। সে সময় আন্তর্জাতিক মানের পিএলসি মেশিনের বদলে দেশীয় মেশিন মাত্র দুই লাখ টাকায় কিনে দরপত্রে দশ লাখ টাকা দেখানোর অভিযোগ ওঠে। একইভাবে চারটি ডিজিটাল বোর্ড কেনায় বত্রিশ লাখ টাকা এবং ফেব্রিক্স মেশিনে আরও কয়েক লাখ টাকার দুর্নীতির তথ্য সামনে আসে। 

সব মিলিয়ে বিগত সতেরো বছরে প্রায় এক কোটি এক লাখ সাতাশ হাজার সাতশো টাকা আত্মসাতের বিষয়টি এখন তদন্তাধীন।প্রথম ধাপের তদন্তে অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছিল দুদক। সেই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় ধাপে মেশিনগুলো জব্দ দেখানো হয় এবং সোমবার বিশেষজ্ঞ প্যানেল তা পর্যালোচনা করে।