রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

২০০ বছরের ঐতিহ্য: জীবনসঙ্গীর খোঁজে তরুণ-তরুণীর ভিড়

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৩, ২০২৫, ০৮:২৪ পিএম

২০০ বছরের ঐতিহ্য: জীবনসঙ্গীর খোঁজে তরুণ-তরুণীর ভিড়

দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার গোলাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ যেন এক মহোৎসবের কেন্দ্র। শত শত বছর ধরে চলে আসা এই মেলা স্থানীয়দের কাছে ‘বাসিয়া হাটি’ নামে পরিচিত হলেও, এর বিশেষ পরিচিতি হলো এটি এককালে ছিল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনসঙ্গী মেলা। প্রতি বছর শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর পরের দিন এই মেলা বসে এবং এবারও শুক্রবার (৩ অক্টোবর) এই ঐতিহ্যবাহী মিলনমেলা শুরু হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত, যেমন—দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, রাজশাহী, বগুড়া, পঞ্চগড় ও নীলফামারী থেকে হাজার হাজার সাঁওতালসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ এই মেলায় ছুটে আসেন। তরুণ-তরুণীদের রঙিন শাড়ি, মাথায় ফুল ও কাঁচের চুড়িতে নিজস্ব সংস্কৃতির ঝলকানি সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে। এই মেলা শুধু কেনাকাটার হাট নয়; এটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষদের এক বিশাল সামাজিক উৎসব ও আত্মীয়-স্বজনের মিলনমেলা।

দিনভর চলে নাচ-গান, বাজনার তালে দলগত পরিবেশনা, যা দূর-দূরান্তের মানুষকে আকৃষ্ট করে।মূল আকর্ষণ হলো, প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্য ধরে চলে আসা এই মেলায় এক সময় যুবকরা পছন্দের জীবনসঙ্গী মেলার সুযোগ পেতেন। তরুণ-তরুণীরা কেউ কাউকে পছন্দ করলে প্রথমে আলাপচারিতা করতেন, পরে পরিবারের মাধ্যমে আলোচনার ভিত্তিতে বিয়ে হতো।

তবে আদিবাসী পাউরিয়া ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, আধুনিকতার ছোঁয়ায় এবং ছেলে-মেয়েদের বিদ্যালয়মুখী হওয়ার কারণে এখন এই প্রথা বা রীতিতে কিছুটা ভাটা পড়েছে, এবং পুরোনো ঐতিহ্যগুলো অনেকটাই মুছে যেতে বসেছে। আদিবাসী সমাজ উন্নয়ন সমিতির আহ্বায়ক জোসেফ হেমরম বলেন, বিয়ের বিষয়টি এখন আর আগের মতো হয় না, তবে পূর্বপুরুষেরা শুরু করা এই ধারাবাহিকতা তারা রক্ষা করছেন। এলাকার সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষ এই মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার ব্যাপারে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।