অক্টোবর ১৮, ২০২৫, ০৮:১৮ পিএম
ফুলবাড়ী থানায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর দায়ের করা এক চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে দিনাজপুর জেলা পুলিশ। একই সঙ্গে ধান ক্ষেতের ডোবা থেকে উদ্ধার হওয়া মস্তকবিহীন মরদেহের বিচ্ছিন্ন মস্তক আজ নলকূপের পাইপের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে ফুলবাড়ী থানার কাজিহাল ইউনিয়নের রশিদপুর গ্রামের একটি ধান ক্ষেতের ডোবায় মস্তকবিহীন খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে জানায়। মরদেহের একটি বিশেষ চিহ্ন দেখে পরিবারের লোকজন নিহত ব্যক্তিটি সাব্বির হোসেন সবুজের (২৮) বলে সনাক্ত করেন।

সাব্বির হোসেন সবুজ গত ২৩ সেপ্টেম্বর বাড়ি থেকে ব্যাংকে যাওয়ার কথা বলে বের হন এবং আর ফিরে আসেননি। তাঁর পরিবার ফুলবাড়ী থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পর ২৫ সেপ্টেম্বর সবুজের ভাই মো. সাদেক হাসান সজিব বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দিনাজপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. মারুফাত হুসাইনের নির্দেশে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেনের তত্ত্বাবধানে জেলা পুলিশ দ্রুত এজাহারনামীয় ৫ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। এদের মধ্যে এজাহারনামীয় ৬ নং আসামি মো. আব্দুর হামেদ (৫৮)-কে তিন দিনের রিমান্ডে আনা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুর হামেদ হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন। তার স্বীকারোক্তি ও দেখানো তথ্যের ভিত্তিতে আজ শনিবার (১৮ অক্টোবর, ২০২৫) পুলিশ সুপার মো. মারুফাত হুসাইনের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মরদেহের বিচ্ছিন্ন মস্তকটি ধান ক্ষেতে সেচ দেওয়া বরেন্দ্র গভীর নলকূপের পাইপের ভেতর থেকে উদ্ধার করে। একই সঙ্গে আসামির নিজ বসতবাড়ি থেকে হত্যায় ব্যবহৃত কোদাল ও হাসুয়াও উদ্ধার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে আসামি আব্দুর হামেদ (যিনি ২০০৫ সাল থেকে নিহতের বাড়িতে কাজ করতেন) জানান, ঘটনার দিন (২৩ সেপ্টেম্বর) সবুজ তাকে নিয়ে জমিতে আগাছা পরিষ্কারের কাজ করছিলেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হলে আব্দুর হামেদ কোদাল দিয়ে সবুজের মাথায় আঘাত করেন, এতে সবুজ ঘটনাস্থলেই মারা যান।
হত্যার পর মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে আসামি প্রথমে মরদেহটি ঘাস দিয়ে ঢেকে রাখেন। পরে মরদেহটিকে তিন টুকরা করে দুটি টুকরা ধানক্ষেতের ডোবায় বস্তায় ভরে পুঁতে রাখেন এবং বিচ্ছিন্ন মস্তকটি গভীর নলকূপের পাইপের ভেতরে লুকিয়ে রাখেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন