শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬,

দিনাজপুর সড়কে দ্বিতীয় দিনের উচ্ছেদ:পুনর্বাসনের দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ৩, ২০২৫, ০৭:৩৫ পিএম

দিনাজপুর সড়কে দ্বিতীয় দিনের উচ্ছেদ:পুনর্বাসনের দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের

ছবি-দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুর শহরের পুলহাট, সিকদারহাট হয়ে খানপুর পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান রোববার থেকে শুরু হয়ে সোমবারও চলেছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ তাদের অধিগ্রহণ করা জমি উদ্ধারে এই উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে।উচ্ছেদ অভিযানে ছোট ছোট দোকানদাররা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তাদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।সোমবার সকাল থেকে শহরের রূপম মোড় থেকে দ্বিতীয় দিনের উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, এই উচ্ছেদ কার্যক্রমে ছোট-বড় দুই হাজার মানুষের দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙা পড়বে এবং প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসময় তারা বেকার হয়ে যাওয়া দোকানদারদের পুনর্বাসনের দাবি জানান।মাশিমপুরের রফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন দোকান ব্যবসায়ী জানান, মূল মালিকেরা জানতেন যে জমিটি সরকারের অধিগ্রহণ করা। তাদের কাছ থেকে যারা দোকান কিনেছেন বা ভাড়া নিয়েছেন, তারাই মূলত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

তারা মিডিয়ার মাধ্যমে সরকারের কাছে পুনর্বাসনের দাবি জানিয়ে বলেন, "উচ্ছেদে অনেক মানুষ বেকার হয়ে যাবে, এর ফলে অপরাধ বাড়তে পারে। পুনর্বাসনে সরকারি কোনো জায়গায় ব্যবস্থা করে দিলে আমরা জামানতসহ যা ভাড়া লাগে, তা দিয়ে ব্যবসা করতে পারতাম। তাই সরকারের কাছে আকুল আবেদন, যদি আমাদের পুনর্বাসন কিংবা কোনো জায়গা দিয়ে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে খুব ভালো হতো।"

দিনাজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানায়, প্রায় ৮৩ বছর আগে ১৯৪২ সালে জমি অধিগ্রহণ করে গেজেটভুক্ত করা হয়। এই অধিগ্রহণকৃত জমি উদ্ধারে এর আগেও ২০০২ সালে সড়ক বিভাগ উচ্ছেদের নোটিশ দিয়েছিল। কিন্তু মোকদ্দমাসহ জটিলতার কারণে সে সময় উচ্ছেদ অভিযান হয়নি।এবার পুনরায় নোটিশ, মাইকিং ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয় সড়ক বিভাগ। এতে অনেকে নিজ উদ্যোগে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিয়েছেন।

রোববার সকাল থেকে দিনাজপুর থেকে খানপুর পর্যন্ত (জেড-৫৮০২) সড়কের দুই ধারে ১২০ ফুট পর্যন্ত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু হয়।দিনাজপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, "ওই জমিগুলো ১৯৪২ সালে গেজেটভুক্ত হয়েছে। যেহেতু গেজেট হয়েছে, সেহেতু এসব জমি মালিকানা দাবির কোনো সুযোগ নেই।" তিনি জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আজ সোমবার পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান চলেছে।

উচ্ছেদ অভিযানে এস্কেভেটর-ভেকুসহ কয়েকশ শ্রমিক অংশ নিয়েছেন। সঙ্গে রয়েছে পুলিশ, আনসার, র‌্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এর আগে দিনাজপুর সড়ক বিভাগ সার্ভে করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বাড়ি উচ্ছেদের জন্য লাল দাগ দিয়ে চিহ্নিত করেছিল।অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান কার্যালয়ের উপ-সচিব (এস্টেট ও আইন কর্মকর্তা) মোহাম্মদ আশফাকুল হক চৌধুরী।