রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সংকুচিত হয়ে আসছে ইউরোপের রপ্তানি বাজার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ২১, ২০২৫, ১০:৫২ এএম

সংকুচিত হয়ে আসছে ইউরোপের রপ্তানি বাজার

দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ধীরগতির মধ্যে এক সময় রপ্তানি প্রবৃদ্ধি আশাব্যঞ্জক থাকলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এসে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে এই খাত। বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নে তৈরি পোশাকের চাহিদা কমে আসায় সামগ্রিক রপ্তানি আয়ে ভাটা পড়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী চলতি জুলাই-নভেম্বর সময়ে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশ ৭৮৩ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১.০৩ শতাংশ কম।

ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি, ফ্রান্স, ডেনমার্ক ও ইতালিতে রপ্তানি আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির ফলে ইউরোপের ভোক্তারা এখন পোশাক কেনা কমিয়ে দিয়েছেন যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে বাংলাদেশের কারখানাগুলোতে।ইউরোপের বাজারে এই ধসের পেছনে অভ্যন্তরীণ কিছু সংকটকেও দায়ী করছেন উদ্যোক্তারা। শিল্পে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি এবং ব্যাংক ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করায় উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী হয়েছে। ২০২৩ সালে গ্যাসের দাম এক লাফে ১৫০ শতাংশ বাড়ানোর সেই নেতিবাচক প্রভাব এখনো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ এবং দাতা সংস্থার পরামর্শে নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হলেও উচ্চ সুদহারের কারণে রপ্তানিকারকরা হিমশিম খাচ্ছেন।

এছাড়া নতুন শিল্প সংযোগে গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটার ৪০ টাকা নির্ধারণ করায় নতুন বিনিয়োগ ও উৎপাদন সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি জানিয়েছেন চীন ও ভারতের আগ্রাসী রপ্তানি কৌশলের কারণে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। পাশাপাশি সরকারি নগদ প্রণোদনা ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশে নামিয়ে আনায় রপ্তানিকারকরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।

বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর তথ্যমতে ২০২৩ সাল থেকে শুরু হওয়া এই সংকট বর্তমানে চরম আকার ধারণ করেছে। গত ২২ মাসে দেশের প্রায় ২২৬টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে বিগত সরকারের আমলে সুবিধাভোগী অনেক ব্যবসায়ী নেতার কারখানা যেমন রয়েছে তেমনি আর্থিক সংকটে পড়া সাধারণ কারখানাও আছে। শক্তিশালী বিপণন কৌশলের অভাব এবং পণ্যে বৈচিত্র্য না থাকায় ইউরোপের সংকুচিত বাজারে টিকে থাকা এখন বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।