মার্চ ৯, ২০২৬, ০১:১৪ পিএম
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এবার সাধারণ নাগরিকদের জন্য কোনো নতুন নোট ছাড়বে না বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন সিদ্ধান্তের ফলে এবারের ঈদে সাধারণ মানুষ ও শিশু-কিশোররা নতুন টাকার ঘ্রাণ থেকে বঞ্চিত হতে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ঈদের ঐতিহ্যের এই বিচ্ছেদ অনেককেই হতাশ করেছে। অথচ সাধারণ মানুষের জন্য সুবিধা বন্ধ থাকলেও নিজেদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ঠিকই নতুন নোটের বিশেষ ব্যবস্থা রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এই নিয়ে খোদ ব্যাংকের ভেতরেই নানা সমালোচনা ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জারি করা এক অভ্যন্তরীণ আদেশে বলা হয়েছে, ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গতকাল রোববার থেকেই নতুন নোট পেতে শুরু করেছেন।
গত ৩ মার্চ এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী নির্বাহী পরিচালক থেকে শুরু করে পরিচ্ছন্নতাকর্মী পর্যন্ত সবাই নির্দিষ্ট পরিমাণ নতুন টাকা সংগ্রহ করতে পারবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের কাছে নিশ্চিত করেছেন যে, সাধারণ বাজারের জন্য নতুন টাকা ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা এবার তাদের নেই।
এর ফলে মতিঝিল বা গুলিস্তানের ফুটপাতে যে নতুন নোটের কেনাবেচা চলত, তা এবার বড় ধরনের সংকটে পড়বে।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা প্রত্যেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নতুন নোট নিতে পারবেন। এমনকি সাধারণ কর্মচারীরাও সর্বোচ্চ ৬৮ হাজার টাকা পর্যন্ত নতুন টাকা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এই বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উত্তোলনের সুযোগ নিয়ে খোদ ব্যাংকের অভ্যন্তরেই প্রশ্ন উঠেছে।
অনেক কর্মকর্তা মনে করছেন, নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে ক্যাশলেস সমাজ গড়ার ডাক দেওয়া হলেও নিজেদের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঠিক বিপরীত পথে হাঁটছে। এছাড়া অনেকের আশঙ্কা, বেতন-ভাতার চেয়েও বেশি পরিমাণ নতুন নোট নেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় এই টাকা অবৈধ পথে ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের হাতে চলে যেতে পারে।
সাধারণত ঈদুল ফিতরের আগে ব্যাংকগুলোতে নতুন নোটের জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা যেত। ঈদ সালামি হিসেবে কড়কড়ে নতুন নোটের চাহিদা সবসময়ই তুঙ্গে থাকে। কিন্তু এবারের এই নতুন নীতিমালার ফলে সাধারণ মানুষ ব্যাংক থেকে কোনো নতুন টাকা সংগ্রহ করতে পারবেন না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন দ্বিমুখী অবস্থানের ফলে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সংস্কারের নামে সাধারণের সুবিধা কর্তন এবং নিজেদের সুযোগ-সুবিধা বহাল রাখার এই প্রবণতাকে অনেকেই নৈতিকভাবে সমর্থন করতে পারছেন না।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন