মার্চ ১০, ২০২৬, ০২:২২ পিএম
বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তির বার্তা দিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন যে সরকার এই মুহূর্তে জ্বালানি তেল কিংবা বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা করছে না। মঙ্গলবার সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের কথা পরিষ্কার করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন যে বর্তমান সরকার কোনো অনির্বাচিত সরকার নয় বরং এটি জনগণের সরকার। ফলে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে অনেক সময় চাপ তৈরি হলেও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বৃদ্ধি পায় এমন কোনো সিদ্ধান্ত তারা নিতে চান না। আপাতত জ্বালানি বা বিদ্যুৎ খাতে দাম পরিবর্তনের বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় নেই বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
জ্বালানি মজুদের বিষয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান যে চলতি মার্চ মাস পর্যন্ত দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ রয়েছে। এছাড়া এপ্রিল এবং মে মাসেও যাতে তেলের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন থাকে সেই লক্ষ্যে সরকার এখন থেকেই নিবিড়ভাবে কাজ করছে।
তিনি উল্লেখ করেন যে ওই সময়ের জন্যও জ্বালানি সরবরাহে কোনো বড় সংকটের আশঙ্কা নেই। কোন কোন দেশ থেকে পরবর্তী ধাপে জ্বালানি আমদানি করা হবে তা নিয়ে সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে যতদিন পর্যন্ত সরকারের পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে ততদিন পর্যন্ত দাম বাড়ানো থেকে বিরত থাকবে প্রশাসন।দেশে পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন যে এই দুটি জ্বালানির কোনো বাস্তবিক সংকট নেই কারণ এগুলোর বেশিরভাগই এখন দেশে উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে।
তবে ডিজেলের ক্ষেত্রে আমদানির ওপর ব্যাপক নির্ভর করতে হয় যা বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে দেশে ডিজেলের চাহিদা হঠাৎ করে ১২ হাজার টন থেকে বেড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টনে পৌঁছেছে। এই অস্বাভাবিক চাহিদা সামাল দিতেই সরকার সাময়িকভাবে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে বাধ্য হয়েছে বলে তিনি ব্যাখ্যা করেন। তবে সরকার আমদানির সূচি অনুযায়ী নিয়মিত পার্সেল দেশে আনছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে রেল ওয়াগন ও ট্যাংকারের মাধ্যমে দেশের সব ডিপোতে তেল পাঠানো হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন